নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ এপ্রিল, ২০২০ ১১:৪৬

অলিগলিতেও যাচ্ছে সেনারা, চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পরিস্থিতিতে মানুষকে ঘরে রাখতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশের মত সিলেটেও ব্যাপক প্রচারণা ও টহল বাড়িয়েছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার দিনভর সেনাবাহিনীর সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকাসহ বিভাগের সবকটি জায়গায় তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এই সময়ে তারা হ্যান্ডমাইকে করে জনসচেতনতামূলক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসার অনুরোধ জানায়। শুক্রবারও একইধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার সেনাসদস্যদের এইসব কার্যক্রমে দেখা যায়, তারা বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া লোকদের ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্যে পরামর্শ দেওয়া পাশাপাশি নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের বাঁচানোর জন্যে ঘরের মধ্যে থাকার পরামর্শ দেন।

সেনাসদস্যরা নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় প্রচারণা কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অলিগলিতেও একইধরনের প্রচারণা চালান। সিলেটে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও র‍্যাবও একইধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সমাজকর্মী ইন্দ্রাণী সেন শম্পা এই প্রসঙ্গে বলেন, নগরীর অলিগলিতেও এখন সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেই গত কয়েকদিন সিলেটের বিভিন্ন রাস্তায় অনেক মানুষের চলাচল দেখা গেছে। তারা কাজে যাওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে এখন আমরা লক্ষ্য করছি সেনাবাহিনী এবং পুলিশের তৎপরতা অনেকে বেশি। প্রতিটা অলিগলিতে তারা টহল দিচ্ছে এবং হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করছে। তারা বাঁশি বাজিয়ে রাস্তা থেকে মানুষকে চলে যেতে বলছে। তাদের সাজোয়া বহর অনেক সময় টহল দিয়ে সাইরেন বাজাচ্ছে, যাতে মানুষ রাস্তায় না থাকে।

উল্লেখ্য, দেশের ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনী এবং উপকূলীয় ১৯টি উপজেলায় নৌবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা দিতে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিন কার্যকর করতে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করবো। প্রয়োজনে প্রথমে ওয়ার্নিং দেবো। তাতে কাজ না হলে আমরা বলবো, আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। এরপরও কাজ না জরিমানাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা আছে।"

তিনি আরও বলেছেন, "বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে আমরা ধরে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখতে পারি। স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় ঘোরাফেরা করলে আমরা তাদের ধরে তাদের বাবা-মা বা অভিভাবককে ডেকে হস্তান্তর করতে পারি। মূলকথা হচ্ছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা আমরা নেবো। তবে কাউকে হিউমিলেট না করে বা কারও প্রতি অন্য কোনো আচরণ না করে যথাযথভাবে দায়িত্বটা পালন করবো।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত