০৭ অক্টোবর, ২০১৫ ১৮:০৬
'রমজান মাসের একদিন লুৎফা অপরিচিত চার যুবককে নিয়ে আসেন বাসায়। এ সময় তিনি এদের সাথে আমাকে খারাপ কাজ করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আমি এতে রাজি না হয়ে বাসা থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। এসময় যুবকদের সহযোগীতায় লুৎফা আমাকে ধরে এনে মারধর করেন। এরপর থেকে প্রতিদিনই মারধর চলতো।
বলছিলো নাজমা বেগম। বর্বরোচিত নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বড়লেখার গৃহকর্মী নাজমা। নির্যাতনের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে এ প্রতিবেদককে এমনটি জানায় নাজমা।
নাজমা বলে, প্রতিদিন রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে আমাকে পেটানো হতো। এছাড়া গরম পানি ঢেলে দেওয়া হতো শরীরে, খুনতির ছেঁকা দেওয়া হতো।দিয়েও নির্যাতন করা হতো মেয়েটিকে।
নাজমা বলে, 'দুই মাস পূর্বে প্রতিবেশী লোকজন আমার অসুস্থতার বিষয়টি বুঝতে পারায় আমাকে গোপনে বড়লেখায় নিয়ে আসা হয়। বড়লেখায় অনার পরও আমাকে গৃহবন্দি করে নির্যাতন করা হয়।'
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির বিছরাবন্দ গ্রামের মনসুর আলীর মেয়ে গৃহকর্মী নাজমা বেগমকে র্ববর নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমার অবস্থা আশঙ্কাজক বলে জানিয়েছেন তার বোন আলেয়া বেগম। গৃহবন্দি অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার সকালে মুঠোফোনে নাজমা কান্না জড়িত কন্ঠে নির্যাতনের বর্ণণা দিয়ে বলে, আমাকে আমার বাড়ি থেকে রাবেয়া বেগমের বাড়িতে কাজের কথা বলে নেওয়া হয় এক বছর আগে। কিছু দিন পর রাবেয়া বেগম আমাকেতার মেয়ে লুৎফা বেগমের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে পাঠিয়ে দেন। খারাপ কাজে রাজী না হওয়ায় লুৎফা বেগম অকথ্য নির্যাতন করতেন।
আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি, আমাকে আমার বাবার কাছে দিয়ে আসার জন্য কিন্তু কিন্তু তারা তা শুনেনি।
গৃহকর্মীর উপর এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির পাঁচাপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বড়লেখা থানায় তিন জনকে আসামীকে করে একটি মামলা দায়ের করেছেন নাজমার বাবা মনছুর আলী। মামলার আসামীরা হলেন-পাঁচপাড়া গ্রামের আজির উদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০), বিবাহিত মেয়ে লুৎফা বেগম (৩০), রাবেয়ার জা রুবী বেগম (৪০)।
নাজমার বাবার দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাৎক্ষণিক গৃহকর্তি রাবেয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে। থানা পুলিশের সুত্র জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত রাবেয়া বেগম থানায় পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিছরাবন্দ গ্রামের হতদরিদ্র মনসুর আলী অভাবের তাড়নায় মেয়ে নাজমা বেগমকে ২ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজে দেন পাঁচপাড়া গ্রামের আজির উদ্দিনের বাড়িতে। প্রায় এক বছর পূর্বে মেয়টিকে (নাজমাকে) ঝিয়ের কাজের জন্য আজির উদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম নিজ জিম্মায় তার বাড়িতে নিয়ে যান। এর প্রায় ৩ মাস পর নাজমার পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তাকে নিজের মেয়ে লুৎফার শশুর বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে পাঠিয়ে দেন রাবেয়া বেগম। সেখানে রাবেয়ার মেয়ে লুৎফা বেগম নাজমাকে দিয়ে খারাপ কাজ করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নাজমা এতে রাজি না হওয়ায় তার উপর চলে অমানবিক নির্যাতন।
আপনার মন্তব্য