০২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৩
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারী-৩ বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে সারী-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কোনো প্রমাণ পায়নি।
তবে বড়গাং বালুমহাল থেকে উত্তোলিত বালুবাহী নৌকাগুলো সারী নদীপথ ব্যবহার করে চলাচল করছে বলে পরিদর্শনে দেখা গেছে।
জানা যায়, সারী-৩ বালুমহাল থেকে বড়গাং বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রশাসনের সহকারী পরিচালক (এডি), ১৯ বিজিবির প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ, বালুমহালের ইজারাদার, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
পরিদর্শনকালে সারী-৩ বালুমহাল ও বড়গাং বালুমহালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা হয়। এ সময় সরেজমিনে দেখা যায়, সারী-৩ বালুমহাল থেকে কোথাও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। কেবল বড়গাং নদী থেকে উত্তোলিত কিছু বালুবাহী নৌকা সারী নদীপথ ব্যবহার করে সারীঘাটে যাতায়াত করছে।
এ সময় অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে সারী-৩ বালুমহালের কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, সারী-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। তবে বড়গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌকাগুলো এই নদীপথ ব্যবহার করে সারীঘাটে যাতায়াত করে।
বড়গাং বালুমহালের ইজারাদাররা জানান, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধভাবে বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন এবং নির্ধারিত এলাকা থেকেই বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের দাবি, বড়গাং বালুমহালের বালু সারীঘাটে পৌঁছানোর জন্য সারী-৩ নদীপথই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। তারা আরও বলেন, সারী-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই নদীপথে নৌযান চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
ইজারাদারদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে পানিপথে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নৌযান চলাচল বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপথে নৌকা চলাচলে কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।
তাদের আরও অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ দাবি করছে এবং প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অযৌক্তিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শনে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে সারী-৩ বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পানিপথে নৌযান চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”
আপনার মন্তব্য