নিউজ ডেস্ক

২৪ জানুয়ারি, ২০১৫ ১৪:১০

স্থান সঙ্কুলান হচ্ছেনা ঢামেক বার্ণ ইউনিটে: সারাদেশের পরিস্থিতিও ভয়াবহ

ঢামেক বার্ণ ইউনিট কর্তৃপক্ষ সামাল দিতে পারছে না পরিস্থিতি। লোকবল ও বেডের কয়েকগুণ বেশি রোগী

বিএনপি নেতৃত্বাধিন বিশ দলীয় জোটের আন্দোলনের নামে নাশকতার কারণে প্রতিনিয়ত পুড়ে যাওয়া মানুষের লাইনে ভারী হয়ে ওঠছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট। পুড়া মানুষের আর্তনাদ-আহাজারিতে বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে পরিবেশ, বাতাসের পুড়া মানুষের গন্ধ; মনে হয় এ যেন আর এক মৃত্যুপুরী!

দেশে পুড়ে যাওয়া রোগীদের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অবরোধে রাজধানী ও বিভিন্ন এলাকায় অবরোধকারিদের নিক্ষিপ্ত পেট্রোলবোমায় ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগে দগ্ধ হয়ে নারী-পুরুষরা এখানে ভর্তি হচ্ছেন। ৩০০ বেডের এ বার্ণ ইউনিটে প্রতিদিন চিকৎত্সাধীন রোগী  থাকে ৫ শতাধিক। আর বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিতসার জন্য আসেন ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। হাসপাতালের বেডে রোগীর স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এই তীব্র শীতের মাঝেও রোগীদেরকে মেঝের মধ্যে রেখে হলেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি গত ১৮ দিনের অবরোধের কারণে নাশকতাকারি সন্ত্রাসিদের হামলায় আহত হওয়া রোগীদের ভীড় সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে বার্ণ ইউনিটের। ২৩ জানুয়ারি এক দিনেই সেখানে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন অগ্নিদগ্ধ লোক। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০ বেডের বার্ণ ইউনিট  ২০০৩ সালে চালু হয়। ঐ সময় ৫০ বেডের এ ইউনিটে প্রতিদিন রোগী থাকত দুই শতাধিক। ২০১১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হরতাল-অবরোধে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে গিয়েছিলেন বার্ণ ইউনিটে। ঐ সময় পোড়া রোগীদের চিকিৎসার করুণ অবস্থা দেখে ৫০ বেডের বার্ণ ইউনিটকে ১০০ বেডে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে জনবলসহ অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করারও ঘোষণা দেন। প্রতিদিন পোড়ারোগী আশংকাজনক হারে বাড়তে থাকে। চাহিদার তুলনায় বার্ণ ইউনিটের সুযোগ-সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। এ অবস্থার মধ্যে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ বেডের বার্ণ ইউনিটকে ৩০০ বেডে উন্নীত করার ব্যবস্থা করেন। ৩০০ বেডের বার্ণ ইউনিট হলেও এর জনবল ১০০ বেডেরই থেকে যায়। 

সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও যন্ত্রপাতি দিয়ে এ বিপুল পরিমাণ রোগীদের সেবা দিতে টালমাটাল অবস্থায় আছে ঢামেক বার্ণ ইউনিট। পরিস্থিতি সামাল দেয়া ডাক্তার-নার্সদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

চলমান অবরোধজনিত নাশকতা ও সন্ত্রাসের কারণে ঢামেক বার্ণ ইউনিটে রোগীদের চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনন্যোপায় হয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু রোগীকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা ভাবছে। তা না হলে পরিস্থিতি কোনভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না বলে তাদের ধারণা। ঢামেক বার্ণ ইউনিটের সাবেক পরিচালক ডা. সামন্তলাল সেন ও প্রফেসর সাজ্জাদ খন্দকার সাংবাদিকদের জানান- বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্ণ ইউনিটে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখানে আরও ওয়ার্ড বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে রোগীদের স্থানন্তর করা হবে সিএমএইচে।

এদিকে দেশের অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজের কয়েকটিতে বার্ণ ইউনিট থাকলেও সেখানে ঢামেকের মতো নেই অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও চিকিৎসাব্যবস্থা এবং একই সাথে সীমিত বেড সংখ্যা। ফলে অপ্রতুল চিকিৎসার উপকরণের সাথে সাথে সুযোগ নেই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢামেক বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা কারণ ঢামেক বার্ণ ইউনিট নিজেই স্থান দিতে পারছে না রোগীদের!




আপনার মন্তব্য

আলোচিত