সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:০৯

যে ৫ দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া তুলনামূলক সহজ

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বসবাস, উন্নত জীবনমান কিংবা শক্তিশালী পাসপোর্ট—কারণ যাই হোক, অনেকেরই স্বপ্ন একদিন ভিন্ন দেশের নাগরিক হওয়া। কিন্তু বাস্তবে নাগরিকত্ব পাওয়া বেশিরভাগ দেশেই দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। তবু ব্যতিক্রম আছে। কিছু দেশ বিনিয়োগ, বৈধ বসবাস, বিয়ে বা পারিবারিক সূত্রে তুলনামূলক সহজ নিয়মে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই পাঁচটি দেশের কথা।

আয়ারল্যান্ড
ইউরোপের নন-সেনজেনভুক্ত দেশ আয়ারল্যান্ডে বংশানুক্রমের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির বাবা-মা অথবা দাদা-দাদি যদি আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তি বংশধর হিসেবে আইরিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বিদেশি জন্মনিবন্ধন–এর মাধ্যমে নিজেকে নিবন্ধন করতে হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি আইরিশ নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। আইরিশ নাগরিকত্বের মাধ্যমে একটি ইইউ পাসপোর্ট পাওয়া যায়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও বসবাসের সুযোগ দেয়। এছাড়াও আয়ারল্যান্ড দ্বৈত জাতীয়তা অনুমোদন করে, ফলে পূর্বের নাগরিকত্ব বজায় রেখেই আইরিশ নাগরিক হওয়া সম্ভব। এই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে কোনো ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।

ডোমিনিকা
ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ ডোমিনিকা বিনিয়োগের মাধ্যমে খুব সহজেই নাগরিকত্ব প্রদান করে। দেশটিতে মূলত দুইটি উপায়ে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রথমটি হলো ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড এ ন্যূনতম বিনিয়োগ এবং দ্বিতীয়টি হলো রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ। এই দুই খাতের যেকোনো একটিতে বিনিয়োগ করলে বিদেশি নাগরিকেরা মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ডোমিনিকার নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। ডোমিনিকার নাগরিকত্ব পেলে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের দেশগুলোসহ ১৪০টিরও বেশি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়াও এই কর্মসূচির আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্ব বজায় রাখা যায়, এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ডোমিনিকায় বসবাসের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই কারণে ডোমিনিকার বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

তুরস্ক
সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। কমপক্ষে চার লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের রিয়েল এস্টেট কিনলে কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। তুরস্কে বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য নিজ দেশের নাগরিকত্ব বা আসল জাতীয়তা ত্যাগ করার প্রয়োজন হয় না। নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাসের বাধ্যবাধকতাও নেই। অর্থাৎ চাইলে তুরস্কে না থেকেও নাগরিকত্ব ধরে রাখা যায়। তুরস্কের পাসপোর্ট নিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশে ভিসামুক্ত ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা উপভোগ করা যায়।

ভানুয়াতু
উন্নয়ন সহায়তা প্রোগ্রামের আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় দুই মাসের কম সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এ জন্য সরকারি তহবিলে ন্যূনতম বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটি শতাধিক দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করে। ভানুয়াতুর নাগরিকত্বের বিপরীতে বিদেশি আয়ের ওপর কোনো প্রকার ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা অন্য কোনো কর আরোপ করা হয় না। যাঁরা ন্যূনতম শর্তে দ্রুত নাগরিকত্ব পেতে চান, তাঁদের জন্য এই দেশ আদর্শ।

পর্তুগাল
পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রামটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মকানুন মেনে পাঁচ বছর বৈধভাবে বাস করলে পর্তুগিজ সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করা যায়। তবে এ জন্য পর্তুগিজ ভাষা পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়। পর্তুগালে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে ইইউ নাগরিকত্বের সুযোগ রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকেরা ভিসামুক্ত ভ্রমণ এবং সেনজেন দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারেন।

সূত্র: প্রথম আলো

আপনার মন্তব্য

আলোচিত