১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৩
সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস-২০১৬ উৎযাপন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সকাল ৯ টায় বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ডস, ব্যাজেস এবং ফুলের তোরায় সুসজ্জিত হয়ে এক রঙিন শোভাযাত্রা বের হয়। এতে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হান্নান, উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, রাগীর-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব, লিডিং ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সকাল ১০টায় লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপাচার্য এবং সকল বিভাগের পক্ষ থেকে সিলেটের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুনরায় র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রিকাবীবাজার পয়েন্ট এবং লামাবাজার পয়েন্ট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ’মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হান্নান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার মো. মমিনুল হক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. আলী আক্কাস উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পূর্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের উদ্বোধন করা হয়।
সিএসই বিভাগের প্রভাষক ইফফাত জাহান চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি সৈয়দ আব্দুল হান্নান বলেন, দেশের উন্নতির জন্য দেশপ্রেম থাকতে হবে, বঙ্গবন্ধু না হলে দেশ স্বাধীন হত না। অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের চিন্তা নিজের মধ্যে লালন করেই বাঙ্গালী জাতীর মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর অগ্রণী ভূমিকার মাধ্যমেই আজ আমরা পেয়েছি বিজয়ের অম্লান লাল-সবুজের পতাকা। আর তা ধরে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আগামী দিনের উন্নতির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আলহাজ্ব এম. এ. কাদির তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চিত্র তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের মধ্যে রয়েছে বলেই আজ আমরা এখানে সমবেত হতে পেরেছি। পাকিস্তানীদের বৈষম্য নীতিই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল সূচনা । পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের অমানবিক অত্যাচার এবং শোষণের বিপক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙ্গালী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বতঃ:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, অর্জন করেছেন স্বাধীনতা, স্বর্ণাক্ষরে লিখা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের নাম।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার মো. মমিনুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. আলী আক্কাস, ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর মো. আবুল কালাম চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক মো. রাশেদুল ইসলাম।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি এবং প্রধান আলোচককে মুক্তিযুদ্ধের সন্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য