০৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪১
অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীদের আবারো শুরু হওয়া আন্দোলন সিলেট জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত স্থগিত হয়েছে। তবে দাবির বিষয়ে অটল থেকে প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসেছে শিক্ষার্থীরা।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত এই কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে ১২ দফা দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় তারা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)’র আশ্বাসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে ভবনের তালা খুলে দেয়।
বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার আন্দোলনে তারা আবারো কলেজের রেজিস্ট্রার মো. সেলিম, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মো. আলমগীর হোসেন, সিভিল ও এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান রামেন্দ্র কুমার দাশ, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলে তারা অবরোধ স্থগিত করে। এখন জেলা ও কলেজ প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের বৈঠক চলছে।
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদ হোসেন জানান, আপাতত জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা অবরোধ স্থগিত করেছি, বৈঠক চলছে। আমাদের আন্দোলনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আগে জেলা প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কাউকেই অবহিত করেনি, এবার তারা আমাদের দাবির মুখে সবাইকে অবহিত করতে বাধ্য হয়েছেন এবং আমরা আশাবাদী আমাদের দাবি পুরণ হবে।
২০০৮ সালে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। তবে আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে এখন পর্যন্ত নেই স্থায়ী কোনো শিক্ষক। আট বছর ধরেই বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ধার করে’ আনা শিক্ষক দিয়ে চলছে এই কলেজটির কার্যক্রম। স্থায়ী শিক্ষক না থাকাসহ এমন নানা সমস্যায় ভূগছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েও কোনো সুফল না পেয়ে সোমবার সকাল আন্দোলনে নেমেছে কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আট বছরেও এই কলেজে স্থায়ী শিক্ষক নেওয়া হয়নি। খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এসব খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেশিরভাগই অদক্ষ। তাছাড়া এরাও নিয়মিত ক্লাস নেন না। ফলে একটি সেমিস্টার শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগে যায়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কলেজের উন্নয়নের জন্য বাজেট আসলেও তা উন্নয়নে ব্যয় হয় না। বরং কর্মকর্তারা তা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেমিস্টার ও হলের জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়।
এই কলেজের শিক্ষার্থী রতন সরকার বলেন, আমাদের কাছ থেকে হলের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলেও হলে কোনো বিছানা নেই। নেই ফ্যান-টেলিভিশন। তাছাড়া পানিসহ নানা সমস্যা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই ওয়াইফাই সংযোগ। নেই পরিবহন সুবিধা। অথচ এসবের জন্য টাকা নেওয়া হয়।
তুষার মজুমদার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সেমিস্টারে ফি দিতে ইসলামি ব্যাংকের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে। এতে প্রতি হাজারে দশ টাকা করে বেশি দিতে হয়। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সমস্যাও রয়েছে। তবু নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী। স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা এ সকল দাবি নিয়ে এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ১২ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ঐদিন সকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক ভবনে কলেজ প্রিন্সিপাল, রেজিস্ট্রার ও তিন বিভাগীয় প্রধানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে কলেজের প্রিন্সিপাল ৭ দিনের মধ্যে তাদের দাবি পুরণের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ স্থগিত করে।
তবে বৃহস্পতিবার আবারো আন্দোলন শুরু প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের দেয়া ৭ দিন সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নেয়ায় তারা আবারো আন্দোলনে নেমেছেন, এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম জানান শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি এ সময়ের মধ্যে মেনে নেয়া হয়েছে। বাদবাকি দাবি পুরণে সময় লাগবে, তবে শিক্ষার্থীরা তা বুঝতে চায় না। তবে এবার আমরা আশাবাদী, প্রশাসনও তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে, দ্রুতই সকল সমস্যার সমাধান হবে।
আপনার মন্তব্য