০৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২০:৩৭
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন করে আসছে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবেই শনিবার উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগকে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা।
শনিবার দুপুর দেড়টা থকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে বলে দাবি করা হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সিরিঞ্জ দিয়ে তাদের শরীরের রক্ত বের করে শিক্ষকদের পথ ভিজিয়ে রাখে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের রক্তে ভেজানো পথ মাড়িয়ে অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে যোগ দেন বলে জানা যায়।
এবিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা শরীরের রক্ত দিয়ে আমাদের দাবিগুলো লিখেছি। ভবনের গেটের সামনের সিড়ি ও তার সামনের জায়গা শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করে ছিটিয়ে দিই। পরে দেড়টার দিকে আমরা উপাচার্য স্যারকে অবরুদ্ধ করি। এখন পর্যন্ত আমরা ভিসি স্যারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘রক্ত দিয়ে আমরা পথ ভিজিয়ে দিয়েছি, যেনো শিক্ষকরা আমাদের দাবি মেনে নেন। কিন্তু শিক্ষকরা তা না করে শিক্ষার্থীদের ওই রক্তের ওপর দিয়েই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে যোগ দেন। সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষকদের একটা প্রতিনিধি দল আমাদের সাথে দেখা করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, বিদ্যমান ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি ভালো। কিন্তু আমরা আমাদের দাবিতে অনড়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘আমি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলবো।’
এর আগে গত মঙ্গলবার এই দুই সিরিজের শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে প্রশাসন। এর পরের দিনই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান করা টিনসেড হল বন্ধ ঘোষণা করে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, যেহেতু ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ৩৩ না তুলতে পারলে বর্ষ পরিবর্তন হয় না, তাই ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশের কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পদ্ধতি চালু নেই। তারা পূর্বের ক্যারি-অন পদ্ধতিতে ফিরতে চায়। যাতে ব্যাক ফ্লপ বা দুই-এক বিষয়ে ফেল থাকলেও পরবর্তীতে বর্ষে পরীক্ষা দিয়ে ঠিক করে নেওয়া যায়।
আপনার মন্তব্য