০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ে কাজ না পাওয়া, সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিক ট্রল এবং পেশাগতভাবে একঘরে করে রাখার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি।
তিনি দাবি করেছেন, গত প্রায় দুই বছর ধরে নতুন কোনও কাজ পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিক ও আর্থিক—দুই দিক থেকেই চরম সংকটে আছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে জ্যোতিকা বলেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাকে কাজ থেকে দূরে রাখছে। যদিও কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার দাবি—বিভিন্ন গ্রুপিং ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান।
লাইভে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব কিনা জানি না।’ একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তি বেড়ে যায়। পাশাপাশি একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান তিনি। এসব কারণে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও পারেননি বলে দাবি করেন।
জ্যোতিকা বলেন, কাজ না থাকায় আর্থিক সংকটও বেড়েছে। অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে সহায়তা নিতে হচ্ছে, যা তাঁকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না, আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’
লাইভে বর্তমান সরকারের প্রতিও তিনি আবেদন জানান। চলমান পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান চান তিনি, যাতে স্বাভাবিক জীবন ও পেশায় ফিরতে পারেন।
অবশেষে অব্যাহতি
উল্লেখ্য, জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অতীতে আলোচনা ছিল। আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মস্থল ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সে সময়ও ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি।
আপনার মন্তব্য