০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৮
দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এবার নিজ দেশের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল জানান, এতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে এসব বলেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বক্তব্য জানানো হয়। খবর ডয়চে ভেলের।
রনধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বুধবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে যে প্রেস কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন, সেটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন। এতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই ফোরামের কোনো বক্তব্য ভারত সরকার সমর্থন করে না।’
এর আগে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাংলাদেশের নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে যে ভাষণ দেয়ার কথা সে বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ৷
বুধবার নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসিএসএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অংশ নেয়ার কথা৷ গতকাল গভীর রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমরা একটি দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি৷ সেই অগ্রযাত্রায় কোনো ব্যাঘাত ঘটুক তা আমরা চাই না৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘এ বিষয়ে ভারতকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে৷''
এফসিসিএসএ জানিয়েছে, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং অন্য বক্তাদের সঙ্গে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য রাখবেন৷
সোমবার গভীর রাতে সাংবাদিকদের শামা ওবায়েদ ইসলাম আরো বলেন, ভারতের মাটি থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার বিষয়ে ভারতের কাছে বারবার নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই না পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হোক৷'' বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ভারত আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, পলাতক ব্যক্তিরা তাদের ভূখণ্ড থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হোক তা তারা চায় না৷
তবে আগামীকালের অনুষ্ঠানটি যে ভারত সরকার আয়োজন করেনি নিজের বক্তব্যে তা-ও উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ৷ তিনি জানান, ঢাকা প্রয়োজনে বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্থাপন করবে৷
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা৷ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে তার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে৷
আপনার মন্তব্য