শাকিলা ববি

০২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৮:৫১

ব্যায়াম আর নগর পরিচ্ছন্ন দুটোই করেন তারা

ছবি : মামুন হোসেন

‘নিয়মিত ব্যায়াম করি, রোগব্যাধি প্রতিরোধ করি’ স্লোগানকে ধারণ করে প্রতিদিন বিভিন্ন শরীরচর্চা করেন সিলেট ফিটনেস ক্লাবের সদস্যরা। এই ক্লাবের বেশির ভাগ সদস্যের বয়সই চল্লিশের বেশি। কিন্তু তরুণদের মতো তারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি এই ক্লাবের সদস্যরা মাঝেমধ্যে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করেন।

ক্লাবের সদস্যরা মনে করেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ফিটনেসের অংশ। তারা মনে করেন ব্যায়াম করা হয় রোগবালাই প্রতিরোধের জন্য। কিন্তু আশপাশ যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে তাহলে ব্যায়াম করেও ফিট থাকা যাবে না।

সিলেট ফিটনেস ক্লাবের সদস্যরা প্রতিদিন সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শরীরচর্চা করেন। এই ক্লাবে সদস্য আছেন প্রায় ৪০০ জন। নিয়মিত সদস্য আছেন প্রায় ৫০ জন। প্রতিদিন সকাল বেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে তারা শরীরচর্চা করেন। শনিবার ক্লাবের প্রায় ৬০ জন সদস্য এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ক্লাবের সহসভাপতি ইনাতগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নজমুল হোসেন বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। আমাদের চারপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে রোগবালাই গ্রাস করবে। তখন ব্যায়াম করেও কাজ হবে না। তাই আমরা শরীরচর্চার অংশ হিসেবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করি। পাশাপাশি আমাদের সাধারণ জনগণ ও আগামী প্রজন্ম যেন সচেতন হয় সে জন্য আমরা নিজেরাই এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করি। আমরা চাই এই শহরের মানুষ যেন যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে, পুকুর জলাশয়ে পলিথিন ফেলে ভরাট না করে। কারণ এই পলিথিন পচনশীল নয়। পুকুর জলাশয়ে পলিথিন ফেললে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের এই কার্যক্রম বিগত দিনেও চলেছে। সামনের দিনগুলোতেও চলবে।’

ক্লাব সদস্য ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমেদ জাবের বলেন, ‘২০১৭ সালে আমি এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এরপর থেকে শরীরচর্চার পাশাপাশি আমরা ধারাবাহিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। পরিচ্ছন্নতা ছাড়া ফিটনেস চিন্তা করা যায় না। পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য আমরা এই ক্লাবে যুক্ত হয়েছি। তাই আমরা যেখানে শরীরচর্চা করি সে জায়গা যদি পরিচ্ছন্ন না থাকে তাহলে ফিট থাকতে পারবে না। আমরা মনে করি, একদিন পুরো বাংলাদেশের মানুষ সচেতন হবে এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবে না। সবাই সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মনের মানুষ হব।’

সিলেট ফিটনেস ক্লাবের সভাপতি ও পাঠানটুলা দ্বিপক্ষীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, “নিয়মিত ব্যায়াম করি রোগব্যাধি প্রতিরোধ করি’ স্লোগান ধারণ করে ২০১৬ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুর দিকে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে আমরা শুধু ব্যায়াম করতাম। এরপর আমরা নিজেদের ফিটনেসের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম শুরু করি। এরই অংশ হিসেবে আমরা এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও শুরু করি। তাই আমরা যে মাঠে নিয়মিত ব্যায়াম করি সেই মাঠ পরিষ্কার করেই আমাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়েও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করি। অনেক দৌড়বিদ আছেন আমাদের ক্লাবে। আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন আমাদের ক্লাবে। এই ক্লাবের অনেকেই আছেন দেশ-বিদেশে ম্যারাথনে অংশ নেন। এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যেন সবাই ময়লা ফেলি এই বার্তা আমরা সবাইকে দিতে চাচ্ছি।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত