২৯ মে, ২০২৬ ১৪:৪৬
চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে’ উল্লেখিত মৃত্যুর সংখ্যাকে ‘অত্যন্ত ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি পরামর্শক স্টিভেন পাউলস কেসি।
গত ২৮ মে ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক-এর কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই রিপোর্টের কড়া সমালোচনা করে একটি গণ-প্রত্যাহার ও সংশোধনী জারির দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব অফিশিয়াল গেজেট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব তথ্যই প্রমাণ করে যে, জাতিসংঘ রিপোর্টে উল্লেখিত ১,৪০০ জন নিহতের সংখ্যাটি প্রকৃত সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে ডটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তাতে ১,৪০০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব অফিশিয়াল গেজেট অনুযায়ী এই সংখ্যাটি ৮৩৪ জন, যা জাতিসংঘের দাবির প্রায় অর্ধেক।
এমনকি শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, তাদের তালিকাতেও নিহতের সংখ্যা ৬৫০ জনের মতো দেখানো হয়েছে। কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এই সংখ্যা আরও কমে আসবে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে এবং তাদেরই একতরফা প্রভাবে এই তদন্ত প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়েছিল। ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪—এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখায় অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যে দেশব্যাপী সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়েছে, তা জাতিসংঘের তদন্তের বাইরে থেকে গেছে।
ড. ইউনূস কর্তৃক আন্দোলনের নেপথ্যের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমকে (পরে উপদেষ্টা) স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান ছিল না, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপারেশন ছিল। জাতিসংঘের মতো একটি বৈশ্বিক সংস্থা এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য যাচাই না করেই রিপোর্টে প্রকাশ করেছে, যা শেখ হাসিনার সরকারকে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে চিত্রায়িত করে সহিংসভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টিকে বৈধতা দিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
চিঠির শেষাংশে শেখ হাসিনার আইনজীবী উল্লেখ করেন, যে-কোনো মৃত্যুর ঘটনাই বেদনাদায়ক এবং শেখ হাসিনা সরকার নিজেই পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা তদন্তে একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু অতিরঞ্জিত ও ভুল তথ্য দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা একটি বিপজ্জনক নজির।
তাই জাতিসংঘের বিশ্বস্ততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে অতি দ্রুত ১,৪০০ জন নিহতের বিভ্রান্তিকর তথ্যটি প্রত্যাহার করে একটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক-এর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য