সিলেটটুডে ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৬

হাজার হাজার আইএস যোদ্ধা পলাতক, বিশ্বজুড়ে সতর্কতা

সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর সর্বাত্মক অভিযানে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে আইএস। অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল করেছে সরকারি বাহিনী। এছাড়া আইএস এখন চরম রসদ ও অর্থসঙ্কটে রয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন আইএসের হাজার হাজার সদস্য পরিবার নিয়ে বা একা পালিয়ে গেছে। এমন তথ্য নিশ্চিত হয়ে কয়েকটি আরব এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা এই পলাতক আইএসদের শনাক্ত করতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রিটবার্ট জেরুজালেম (Breitbart Jerusalem) শনিবার একজন আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য দিয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়া, ইরাক এবং লিবিয়ায় হাজার হাজার আইএস সদস্য নিখোঁজ।


ওই কর্মকর্তা জানান, পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে কয়েকশ আইএস সদস্য আছে যারা লিবিয়ার সির্তে এবং ইরাকের মসুলে যুদ্ধ করে পরাজিত কিন্তু বেঁচে যাওয়া, সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তবর্তী মানবেজ, আলরাই, জারাবুলুস ও আরো কয়েকটি গোষ্ঠীর সদস্য।


ধারণা করা হয়, এইসব অঞ্চলে আইএস যোদ্ধার সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। কিন্তু এযাবত বিভিন্ন অভিযানে নিহত এবং আটক মিলে কয়েক হাজারও হবে না।

এই কারণেই এটা চিন্তার বিষয় পলাতক লোকগুলো তাহলে গেল কোথায়? হয় তারা পার্শ্ববর্তী এলাকায় অন্য কোনো যুদ্ধরত গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হয়েছে অথবা প্রতিবেশী দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। দ্বিতীয়টির সম্ভাবনাই বেশি। এই অনুপ্রবেশ ঘটে থাকতে পারে তুরস্ক থেকে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ, কিছু ক্ষেত্রে লিবিয়া এবং পুরো উত্তর আফ্রিকায়।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, ৭০০ তিউনিসীয় যোদ্ধার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া কয়েক হাজারের খোঁজ চলছে।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই জঙ্গিদের “ওয়ান্টেড” তালিকা উপসাগরীয় এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে বিনিময় করছি। এছাড়া ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশ যেখানে আইএসের নামে জিহাদ করার ঘোষণা আসছে এবং হামলা হচ্ছে তাদের সাথেও এ তথ্য বিনিময় হচ্ছে।

সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে দখলীকৃত আইএসের কয়েকটি অপারেশন রুমে এমন কিছু লোকের নাম পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পলাতক যোদ্ধারা আরো হামলা চালাতে সক্ষম এমন সম্ভাবনা নেই। তবে সন্দেহ নেই যে এর মধ্যে কেউ কেউ সেই সক্ষমতা এখনো রাখে এবং তারা সেটা করবে। কমপক্ষে নিজ দেশে।গিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করবে তারা।

তিনি জানান, গত বছর থেকে আরব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে নাটকীয়ভাবে উন্নয়ন ঘটেছে। ফলে সন্ত্রাসী তৎপরতা বানচাল করার সুযোগ বহুগুণে বেড়েছে। তবে তারা এখনো যেসব এলাকায় রয়েছে সেখানে হামলার সম্ভাবনা কিন্তু আছেই। তিনি এর সঙ্গে যোগ করেন, সিরিয়া-জর্দান সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘাতের মূলে রয়েছে আইএসের সাবেক যোদ্ধাদের জর্দানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা।

গত বুধবার (সেপ্টেম্বর) জর্দানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই জন আইএস সদস্যকে জখম ও আটক করেছে। তারা জর্দানের সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। এসময় প্রতিরোধের মুখে অন্য জঙ্গিরা সিরিয়াতে পিছু হটেছে। অদূর ভবিষ্যতে সিরিয়া সীমান্তেও এমন ঘটনা হয়তো প্রত্যক্ষ করতে হবে।

এদিকে ইরাকি নিউজ নামে একটি গণমাধ্যম একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শনিবার জানিয়েছে, নিনেভ প্রদেশ থেকে ১৮০ জনেরও বেশি আইএস সদস্য ইরাকের মসুল থেকে পালিয়ে গেছে। পরিবারসহ তাদের সিরিয়ার রাক্কা শহরের দিকে যেতে দেখা গেছে। ওই সূত্র জানায়, গত শুক্রবারই তারা সপরিবারে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ইউরোপ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে থেকে যেমন প্রচুর মানুষ আইএসে যোগ দিয়েছে তেমনি বহু মানুষ পরে স্বপ্নভঙ্গ হওয়াতে সংগঠন থেকে পালিয়েও গেছে। জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে শত শত সদস্যকে আইএসের শাস্তি দেয়ার খবর একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত