০৯ মে, ২০১৫ ০১:০১
পাকিস্তানের নাল্টার উপত্যকায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দেশটিতে নিযুক্ত ফিলিপাইন ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া রাষ্ট্রদূতের স্ত্রীরাও। দুই রাষ্ট্রদূতসহ ছয়জন নিহত হওয়া বিমানে হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার পাকিস্তানের কাশ্মিরের গিলগিত-বালতিস্তান সীমান্তের কাছে একটি স্কুলের পাশে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
নিহতদের মধ্যে পাকিস্তানে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রূত ডোমিঙ্গো ডি লুসেনারিও জুনিয়র, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত লেইফ এইচ লারসেন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী এবং হেলিকপ্টারের দুই পাইলট রয়েছেন। আহত হন পোলিশ ও ডাচ রাষ্ট্রদূতসহ পাঁচজন।
আইএসপিআর’র মেজর জেনারেল অসীম বাজওয়া এক টুইটে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন হেলিকপ্টারটির দুইজন পাইলটও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে,পাকিস্তানের চরমপন্থী সশস্ত্র ইসলামিক গোষ্ঠীটি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে তাদের হামলার মূল টার্গেট ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ।
পাকিস্তানের ওই এলাকায় পর্যটকদের জন্য একটি লিফট স্থাপন প্রজেক্টের উদ্বোধন করার কথা ছিল ওই দুই রাষ্ট্রদূতের। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কথা শুনে তার বিমান ফেরত আসে।
তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি এক ই-মেইলে জানিয়েছেন, ‘বিমানবিধ্বংসী মিসাইল ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হেলিকপ্টারের পাইলটসহ অনেক বিদেশী রাষ্ট্রদূতকে হত্যা করা হয়েছে।’ উর্দু ভাষায় লেখা ওই ই-মেইলে তালেবানের দাবিটি সত্য কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের ওই অঞ্চলে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফও। তবে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের খবর পেয়ে তিনি রাজধানী ইসলামাবাদে ফিরে যান।
বিধ্বস্ত রাশিয়া নির্মিত এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটি ৩২ জন আরোহী বহন করতে পারে।
আপনার মন্তব্য