২৭ জুলাই, ২০২০ ২১:২৫
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার,সাবেক নৌমন্ত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খানের নমুনা পরীক্ষার পর প্রথমে ‘ভুল করে’ করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার বলেছে, তিন ঘণ্টার মধ্যে ওই ভুল সংশোধন করে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ লেখা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামসুজ্জামান সোমবার এসব কথা বলেন।
করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ লেখা সেই প্রতিবেদন নিয়ে ঐশী রোববার দুপুরে লন্ডনের ফ্লাইট ধরতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে তথ্য যাচাইয়ে সত্যতা না মেলায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ভুল রিপোর্ট দেওয়ার কারণে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐশী খান, যা তার বাবা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান নিজে গিয়ে দিয়ে এসেছেন।
ইংল্যাণ্ডের কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ঐশী গত ২০ ফেব্রুয়ারি দেশে আসার পর করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে আটকা পড়েন। আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তার ফেরা বিলম্বিত হয়। এখন আবার ফ্লাইট চালু হওয়ায় রোববার দুপুরে বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লন্ডনে ফেরার কথা ছিল। বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিদেশযাত্রায় এখন কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় গত ২৪ জুলাই মহাখালীতে ডিএনসিসি আইশোলেশন সেন্টারে গিয়ে তিনি নমুনা দেন। ২৫ জুলাই কেরোনাভাইরাসমুক্ত সনদ পাওয়ার পর তা নিয়ে তিনি রোববার বিমানবন্দরে যান। কিন্তু বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ পাসপোর্ট নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে তাদের সার্ভারে ঐশীর রিপোর্ট যাচাই করে দেখতে পায় তার দেওয়া সনদের সঙ্গে সার্ভারের প্রতিবেদনের মিল নেই। ঐশীর সনদে করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ লেখা থাকলেও সার্ভারে তার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’, অর্থাৎ তিনি এ ভাইরাসে আক্রান্ত।
এ কারণে সাবেক নৌমন্ত্রীর মেয়ের বিদেশে যাওয়া আটকে যায়। এনিয়ে রোববার সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় ঐশীর করোনাভাইরাস ধরা পড়লেও প্রথমে ভুল করে ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট চলে গিয়েছিল জানিয়ে সরকারি এ সংস্থার পরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান সোমবার বলেন, পরে তারা সঠিক প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) পাঠিয়েছিলেন।
তিনি জানান, প্রতিদিনের রিপোর্টগুলো তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন এবং ডিএনসিসির বুথের ইমেইলে পাঠিয়ে দেন। বিদেশগামী যাত্রীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ওই রিপোর্ট ইমেইল করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় এমআইএসের সার্ভারে ওই রিপোর্ট আপলোড করা হয়।
যাত্রীরা ডিএনসিসির আইসোলেশন সেন্টার থেকে তাদের রিপোর্ট নিয়ে নেন। ইনস্টিটিউট সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে রিপোর্ট দেয় না।
কোন পর্যায়ে কীভাবে ওই ‘ভুল’ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, “খতিয়ে দেখে আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এদিকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘ভুল রিপোর্ট’ দেওয়ার ঘটনায় সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐশী খান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. আক্কাস আলী বলেন, শাজাহান খান নিজে গিয়ে মেয়ের লিখিত অভিযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের কাছে দিয়ে আসেন। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনও অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়।
এই ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের তদন্ত করে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করেছেন ঐশী খান।
আপনার মন্তব্য