২৬ জুন, ২০২৬ ০১:৪২
২০২৫ সালে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি হয়/ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে ২৫ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের মেগা মনোরেল প্রকল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাঞ্চল্য। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও চূড়ান্ত চুক্তি অবশেষে বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
মিশরের একটি নামী কনসোর্টিয়ামের কথিত ভুয়া প্রতিনিধির সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার (২৪ জুন) চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এটি বাতিল করা হয়।
চসিক সূত্র জানায়, ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস গত ২২ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠিতে দূতাবাস স্পষ্ট করে জানায়, কাউসার আলম চৌধুরী নামের যে ব্যক্তি নিজেকে ‘আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’-এর অনুমোদিত প্রতিনিধি দাবি করেছিলেন, তিনি আসলে ওই প্রতিষ্ঠানের কেউ নন এবং চসিকের সাথে চুক্তি করার মতো কোনো বৈধ কর্তৃত্ব তার নেই।
মিশরীয় দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির সত্যতা যাচাই করে চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুয়া প্রতিনিধির সাথে করা এই চুক্তির আর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ফলে কনসোর্টিয়ামের কথিত প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরীর সাথে করা পূর্বের সকল সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অনুলিপি ইতিমধ্যে বিডা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ‘আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’-এর সাথে চসিকের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় নিজেকে এই কনসোর্টিয়ামের অনুমোদিত প্রতিনিধি দাবি করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন কাউসার আলম চৌধুরী। পরবর্তীতে একই বছরের ২৪ জুন প্রকল্পটির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২৫ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পটি নিয়ে তখন বন্দরনগরীসহ দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনা শুরু হয়েছিল।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সহযোগিতার জন্য বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বরাবর ডিও লেটারও পাঠিয়েছিলেন চসিক মেয়র। চসিকের চিঠির প্রেক্ষিতে বিডা এই বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ বরাবর চিঠি প্রেরণ করে। এর ফলে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রকল্পটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ এক বছর পর চুক্তি স্বাক্ষরকারী মূল ব্যক্তিই ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সেই বহুল আলোচিত মেগা মনোরেল প্রকল্পের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেল। চসিকের মতো একটি বড় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এমন মেগা প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কেন ওই ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড বা বৈধতা যাচাই করা হলো না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
আপনার মন্তব্য