০৬ আগস্ট, ২০২১ ১৫:৪৪
বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ভূমিকা রাখা পাঁচ বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক’। বঙ্গমাতার অবদানকে স্মরণীয় করার লক্ষ্যে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত সর্বোচ্চ জাতীয় পদক হিসেবে এটি প্রবর্তন করেছে সরকার।
আগামী ৮ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পদক বিতরণ করবেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা শুক্রবার জাতীয় শিশু একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন। অন্যদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব, মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন।
মনোনীত প্রত্যেকে পাবেন ১৮ ক্যারেট মানের ৪০ গ্রাম সোনা দিয়ে তৈরি একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৪ লাখ টাকার চেক ও সম্মাননা সনদ।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মমতাজ বেগম এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের জয়া পতিকে এবার মরণোত্তর এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে অবদানের জন্য পাবনার কৃষি উদ্যোক্তা মোছা. নুরুন্নাহার বেগম, রাজনীতিতে কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল এবং গবেষণা ক্ষেত্রে নেত্রকোনা জেলার লেখক ও গবেষক নাদিরা জাহান (সুরমা জাহান) এ বছর ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ পদক পাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, “বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের রয়েছে অপরিসীম অবদান। বঙ্গমাতা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সহধর্মিণী ও বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে নেপথ্যের কারিগর। বঙ্গমাতার অবদান চিরস্মরণীয় করার লক্ষ্যে সরকার এই পদক প্রবর্তন করেছে।”
যেভাবে বাছাই করা হয়
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের বাছাই কমিটি বিজয়ীদের চূড়ান্ত করে। বাছাই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও রাখা হয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)।
পদকের জন্য পাওয়া আবেদন মূল্যায়ন করে সর্বোচ্চ ১০ জনের নাম জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ পাঠায়। এরপর জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে চূড়ান্ত করা হয় বিজয়ীদের।
এ পদকের জন্যে যোগ্যদের এ বছরের ৩১ মে-র মধ্যে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক নীতিমালা-২০২১’ অনুযায়ী নির্ধারিত ছকে তাদের আবেদন করতে হয়েছিল। www.mowca.gov.bd এবং www.jms.gov.bd এ দুই ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ছক অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৩১ মে-র মধ্যে sasmobio-1@mowca.gov.bd আইডিতে মেইল করে এবং আবেদনের হার্ড কপি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ডাকযোগে পাঠাতে হয়।
আপনার মন্তব্য