১৪ আগস্ট, ২০২১ ২০:৪২
কারাবন্দি অভিনেত্রী পরীমণির মুক্তির দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। বিক্ষুব্ধ নাগরিকজনের ব্যানারে শনিবার বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন লন্ডন অবস্থানরত বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী।
চলচ্চিত্র, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
অভিনেত্রী পরীমণির মুক্তির দাবি জানিয়ে গাফফার চৌধুরী বলেন, পরীমণির সঙ্গে যেটা করা হয়েছে সেটা অন্যায়। নারী বলে তাকে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানাই আমি।
এরআগে পরীমণির ন্যায়বিচার চেয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার লিখেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন একুশের গানের এই রচয়িতা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে এখন নষ্ট মেয়ে বানাবার চল শুরু হয়েছে। যাকে যখন ভালো লাগবে না তাকে তখন নষ্ট মেয়ের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নষ্ট মেয়ের তকমা লাগানো খুবই সহজ। প্রতিটি প্রতিবাদী নারীকে নষ্টা মেয়ে তকমা লাগাতে পারেন। কারা এই মেয়েদের নষ্ট করেছে? নষ্ট মেয়ে ঠিক করা তো আপনাদের কাজ না। মোল্লাদের মতো কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমও নারীদের চরিত্র হননে ব্যস্ত হয়ে গেছেন। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।
তারা আরও বলেন, আমরা আজ শুধু পরীমণির জন্য দাঁড়াইনি, আমরা দেশের সমগ্র নারী সমাজের জন্য দাঁড়িয়েছি। তালেবানের আফগানিস্তানের মতো নারীদের পাথর ছুঁড়ে মারার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। মাত্র কয়েক বোতল মদের জন্য ৬ দিন রিমান্ড। অথচ গুলশান বনানী সব জায়গায় মদ আছে, সেগুলোর খোঁজ কে রাখে। কিন্তু মদ পাওয়ায় পরীমণিকে আটকে রাখা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় এর পেছনে অন্য কিছু আছে। এমন চলতে থাকলে এমন দিন আসবে যেদিন নারী সংবাদ পাঠক পাব না, চলচ্চিত্রে প্রতিভাবান নায়িকা পাব না। গণমাধ্যম দীর্ঘসময় পরীমণিকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেছে। পুলিশ যেভাবে উপস্থাপন করেছে, সংবাদমাধ্যম সেভাবেই কাজ করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এই প্রথম এভাবে নারী নিপীড়নের সংবাদ প্রচার হয়েছে।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আবুল হোসেন, বিক্ষুব্ধ নাগরিকজনের আহ্বায়ক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শাশ্বতী বিপ্লব, সাংবাদিক রঞ্জু চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী মুশফিকা লাইজু, নির্মাতা রাশিদ পলাশ, নির্মাতা সংগীতা ঘোষ, প্রকাশক দেলোওয়ার হোসেন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আকরামুল হক প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য