সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৪৭

দৃষ্টিনন্দন পায়রা সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

পটুয়াখালীতে দেশের চতুর্থ বৃহত্তম পায়রা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। সেই সঙ্গে তখন থেকেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে সেতুটি।

পায়রা সেতুর মধ্য দিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে আরও একটি স্বপ্ন পূরণ হল দক্ষিণাঞ্চলবাসীর। সেতুটি চালু হওয়ায় বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত সড়ক পথ হবে ফেরিবিহীন। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পণ্য পরিবহন এবং পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মোচন হয়ে অর্থনীতিতে গতি আসবে এই অঞ্চলের মানুষের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুর পটুয়াখালী প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এমপি। এছাড়া দুমকী প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার সংসদ সদস্যরা, সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর, শেখ হাসিনা সেনা নিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল কালাম মো. জিয়াউর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খানসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফেরি পারাপারের দুর্ভোগ ঘুচিয়ে এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নবদিগন্তের সূচনা করলো। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা এখন রাজধানী থেকে কক্সবাজারের চেয়েও কাছে।

কর্মকর্তারা জানান, এ সেতুর ফলে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পৌঁছতে সময় লাগবে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের। পায়রা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে ঢাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের পথ সুগম হবে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, কোস্টগার্ডের সিজি-বেইজ অগ্রযাত্রা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর।

কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার লেবুখালীতে পায়রা নদীর ওপর নির্মাণ হয়েছে পায়রা সেতু। কিন্তু স্থানীয়ভাবে বলা হয় লেবুখালী ব্রিজ। পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ছিল শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ২০১৩ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর লেবুখালীতে এসে পায়রা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ বিনিয়োগে ১১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় সেতুটি। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লনজিয়াল ব্রিজ অ্যান্ড রোড কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে পটুয়াখালী জেলা শহরের দূরত্ব সড়কপথে ৩৮ কিলোমিটার। আগে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পৌঁছতে সময় লাগত পাঁচ ঘণ্টা। পাঁচটি ফেরি ছিল এ দেরির প্রধান কারণ। নব্বইয়ের দশকে চারটি ফেরির স্থানে সেতু নির্মিত হলে কমতে থাকে বিড়ম্বনা। সর্বশেষ ফেরি পারাপার ছিল স্রোতস্বিনী পায়রা নদীর লেবুখালী পয়েন্টে।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি মেগা প্রকল্পের অন্যতম পায়রা নদীতে নির্মিত সেতুটি উদ্বোধনের ফলে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী হয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে যেতে ফেরি যুগের অবসান ঘটলো। বরিশাল থেকে পটুয়াখালী যেতে সময় লাগবে এক ঘণ্টারও কম। দুই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছা যাবে কুয়াকাটায়।

আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিক নকশা: নদীর দুই পাড়ে দুটি ও নদীর মধ্যে একটি- মোট তিনটি পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে পায়রা সেতু। নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশে সবচেয়ে দীর্ঘ। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ ১০টি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে এ সেতুতে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত