০৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২০:৪৬
রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় স্যুয়ারেজ ভেতর পড়ে যাওয়া ৫ বছরের শিশু ইসমাইল হোসেন নীরবকে চার ঘন্টার পর বুড়িগঙ্গার তীরে পাওয়া গেছে। ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা থাকায় শিশুটি পড়ে যায়।
মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের পাশে বুড়িগঙ্গার তীরে শিশুটির ‘লাশ পাওয়া যায়’ বলে ফায়ার ব্রিগেডের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক জানান।
“বুড়িগঙ্গার কাছে একটি নালায় বসানো জালে লাশটি আটকে ছিল,” বলেন তিনি।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বড়ইতলা জাগরণী মাঠের পশ্চিম দিকের পালপাড়া রোডে এ ঘটনা ঘটে। সময়বয়সীদের সাথে খেলাধুলা করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা বলেছেন। তবে শিশু নীরবকে ধাক্কা দিয়ে স্যুয়ারেজ লাইনের ভেতরে ফেলে দেয়া হয়ে বলে অভিযোগ করেছেন তার চাচা সোহারাব আলী।
সোহরার আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে নীরব অন্য দুই শিশুর সঙ্গে বড়ইতলা জাগরণী মাঠের পশ্চিম দিকের পালপাড়া রোডে ওই সুয়ারেজ লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন স্থাপিত একটি নাগরদোলা দেখছিল। নীরবের সঙ্গে আরো যে দুই শিশু ছিল তাদের একজন হৃদয়।
এই হৃদয়ই সোহরাব আলীকে এ কথা জানিয়েছেন। তবে যে শিশু নীরবকে ধাক্কা দিয়েছে বলে হৃদয় দাবি করছে তার নাম সে জানাতে পারেনি।
এ বিষয়ে কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেয়া হলে একদল কর্মী এসে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।"
তিনি আরো জানান, শ্যামপুর ইউনিয়নের পালপাড়ার শিল্প কারখানার বর্জ্যের এ স্যুয়ারেজ লাইনে প্রচুর স্রোত রয়েছে। মূলত গ্যাস বের হওয়ার কারণে স্যুয়ারেজ লাইনের ঢাকনা খুলে রাখা হয়েছিল। খেলার সময় সেখানেই হঠাৎ করে পড়ে যায় শিশুটি।
প্রায় এক বছর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন পরিত্যক্ত পানির পাম্পের ৩শ ফুট গভীর পাইপে পড়ে যায় ৪ বছরের শিশু জিহাদ। ২৩ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর শিশু জিহাদকে মৃত অবস্থায় ওয়াসার গভীর নলকূপের পাইপ থেকে বের করে আনে স্বেচ্ছাসেবী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
আপনার মন্তব্য