২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৫
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিলেটের মহাসড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ত্রি-হুইলার (তিন চাকার যান)। এসব ত্রি-হুইলারের কারণে কারণে প্রতিনিয়িত ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানি।
শনিবার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্যাংক লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জন নিহত হন।
এরআগে গত ৯ আগস্ট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুরা এলাকায় সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন।
এভাবে প্রতিনিয়তই মহাসড়কে অবৈধ ত্রি-হুইলারের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
রোববার দুপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দয়ামীর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন অবাধে চলাচল করছে। এই মহাসড়কের চন্ডিপুল থেকে শেরপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপরই বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠেছে সিএনিজ অটোরিকশা ও টমটম স্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ডে দাঁড় করানো আছে ২০ থেকে ৫০ টি ত্রি-হুইলার। মহাসড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। মহাসড়কের একাধিক জায়গায় পুলিশের অবস্থান দেখা গেলেও এসব যানবাহন চলাচলে কোন বাধা দিচ্ছে না পুলিশ।
কেবল দুর্ঘটনা নয়, মহাসড়কে যানজটেরও অন্যতম কারণ এসব ত্রি-হুইলার। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তাজপুর বাজার, গোয়ালাবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় সিএনজির অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে।
কেবল সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক নয়, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কসহ সিলেটের বিভিন্ন আঞ্চলিক মহাসড়কেও সিএনজি, টমটমসহ বভিন্ন ত্রি-হুইলার যানবাহন অবাধে চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রশ্ন ওঠেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে চলছে এসব যানবাহন।
এসব মহাসড়কে চলালকারী একাধিক সিএনজি অটোরিকশা চালকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, পুলিশ ও বিআরটিএকে নির্দিষ্ট অংকের মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমে সড়কে অটোরিকশা চলাচল করে। সিএনজি অটোরিকশা সমিতির মাধ্যমে এসব মসোহারার টাকা প্রদান করা হয়। এই অবৈধ লেনদেনের জন্য মহাসড়কে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠেছে সিএনজি অটোরিকশা সমিতি। তবে সংশ্লিস্ট এলাকায় সমিতির বাইরের কোন অটোরিকশা চলােল করলেই আটক করে পুলিশ। আর সমিতি সংশ্লিস্ট অটোরিকশাকে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেয়।
যদিও গত ১৯ আগস্টেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মহাসড়কে আর কোনো থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া হবে না।
ওইদিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কে নন-মোটরাইজড যানবাহন বা থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া হবে না। থ্রি-হুইলারগুলো কেবল স্থানীয় বাজার, ফিলিং স্টেশন ও ফিডার রোডে চলাচলের অনুমতি পাবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে উঠলে সংশ্লিষ্ট যান ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরআগে ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সিলেটসহ দেশের সব মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করে।
ওই বছরের ১ আগস্ট থেকে সারা দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সড়কে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আগামী ১ আগস্ট থেকে সারা দেশের জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা ও সব ধরনের অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এখন শুধু ২২টি মহাসড়কে বন্ধ থাকবে এসব।
তবে এসব ঘোষণা সত্ত্বেও মহাসড়কে ত্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। বন্ধ হচ্ছে না দুর্ঘটনাও।
এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান রোববার সিলেটটুডেকে বলেন, সারা বাংলাদেশেই্এমনটি চলছে। এটি জাতীয় সমস্যা। সব জায়গায়ই সিএনজি অটোরিকশা চলে।
তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। সচেতনামূলক কার্যক্রম চালাই। তবু বন্ধ হচ্ছে না। তবে কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে আশা করছি একদিন বন্ধ হবে।
আপনার মন্তব্য