নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫৪

সিলেটে ভবন নির্মাণে এখন থেকে লাগবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন

সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণ, সম্প্রসারণ কিংবা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার, জলাধার খনন ও পুনঃখননসহ বিভিন্ন কার্যক্রমেও সিউকের অনুমোদন নিতে হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আগে নগরে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নিতে হতো। এখন তার সাথে যুক্ত হলো নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে চেয়ারম্যান কয়েস লোদী বলেন, সিউকের আইন অনুযায়ী এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল নগরায়ণ এবং পরিবেশবান্ধব সিলেট গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলেট মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুশৃঙ্খল নগরায়ণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রচলিত আইন, বিধি ও বিধিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এতে বলা হয়, ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং জলাধার খনন বা পুনঃখননের আবেদন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুসরণ করে সিউকের আওতাধীন এলাকায় ভূমি জরিপ, মাটি পরীক্ষা এবং ভবনের স্থাপত্য, কাঠামো, বৈদ্যুতিক ও পানি-নিষ্কাশন সংক্রান্ত নকশা প্রণয়ন করতে হবে। এসব নকশা সিউকের তালিকাভুক্ত স্থপতি, প্রকৌশলী বা নকশাকারকের মাধ্যমে তৈরি করে আবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৫ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রতিষ্ঠানকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিতে হবে।

সিউকের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ, সম্প্রসারণ বা পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। অবৈধ দখল, ভরাট কিংবা পরিবেশের ক্ষতি হয়- এমন কার্যক্রম থেকেও সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৩-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এর আওতাভুক্ত বিষয়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতির মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রম অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত