নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৫

সিলেটে সরকারি চার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে বিএনপির ৪ নেতা

ত্যাগী ও বঞ্চিতদের মূল্যয়ন

সরকার গঠনের পর দলীয় নেতাদের মূল্যায়ন করা শুরু করে বিএনপি। বিশেষত গত ১৫/১৬ বছর যারা লড়াই সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং গত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে দলটি।

সরকার গঠনের পর এ পর্যন্ত সিলেটের চার নেতাকেও মূল্যায়িত করেছে দলটি। এসব নেতাদের স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এই নেতারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।

এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গত নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তার বদলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এমএ মালিক এ আসনে মনোনয়ন পান। তবে নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনে বিএনপির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কাইয়ুম চৌধুরী। আর নির্বাচনের পর তাকে সিসিকের প্রশাসক করা হয়।

এরপর ১৫ মার্চ সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমকে নিযুক্ত করে সরকার।

আবুল কাহের চৌধুরী শামীম গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

১১ জুন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান মহানগর বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে ১১ জুন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কয়েস লোদী গত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান এজেন্ট ছিলেন। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সবশেষ গত ৯ আগস্ট বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করে সরকার।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ- ২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।

মিফতাহ সিদ্দিকী গত নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনের মনোয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান আরিফুল হক চৌধুরী।

দলীয় নেতাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে সরকার।

তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, রাজনীতিবিদদের নিয়োগ প্রদানের মধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জনবান্ধব করে তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে শনিবার রাতে সিসিক প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত