০৩ এপ্রিল, ২০২২ ১৫:৫২
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সুবর্ণা মুস্তফা বলেছেন, টিপ পরা না পরা নারী সমাজের অধিকার, তা নিয়ে দেশের কোনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ইভ-টিজিং বা কুকথা বাংলাদেশের তথা সকল নারী সমাজের জন্য একটি লজ্জাসকর ঘটনা। তা সে যে কোনো ধর্মের হোক- হিন্দু, মুসলিম বা বৌব্ধ যে কোন ধর্মের নারীই হন না কেন।
তিনি গত শনিবারে ওই কলেজ শিক্ষিকাকে যে পুলিশ সদস্য ইফ টিজিং ও কুৎসিত ভাষায় গালাগাল দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেবার আহ্বাণ জানিয়েছেন। রোববার পয়েন্ট অব ওর্ডারে দাড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন।
সুবর্ণা বলেন, দেশের সংবিধানের কোন আইনে লেখা আছে একজন নারী টিপ পরতে পারবে না। এখানে যে কোন ধর্ম, সে বিবাহিত না অবিবাহিত যে হোক, সে যে কেউ হোক সেটা তার অধীকার।
গতকাল (শনিবার) ফার্মগেটে একজন কলেজ শিক্ষিকা যখন রিকসা থেকে নেমে তার কলেজ (তেজগাঁও) এর দিকে যাচ্ছিলেন তখন সেখানে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (পুলিশ) এর পক্ষ থেকে তাকে সুস্পষ্টভাবে ‘ইভ’ টিচিং বা অবজ্ঞা করা, ছোট দেখানো-এধরনের ব্যবহার প্রকাশ করে কুৎসিত বাক্য দিয়ে ওই কলেজ শিক্ষিকাকে অসম্মান করা হয়েছে। তিনি যখন এর প্রতিবাদ করতে গেছেন তখন তাকে তুই তামারী করা হয়েছে। এমন কুৎসিত বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা তিনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন নি। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
সুবর্ণা আরো বলেন, আমি কোন দল রিপ্রেজেন্ট করি এগুলো তার উর্ধ্বে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, মানুষ আগে, সবাই সমান, মানুষের অধীকার সবার আগে। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা বলেছেন, মানুষকে ভালো বাসতে হবে, তার কথা বলার অধিকার, তার জীবন যাপনের অধিকার, তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এসময় বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলাও করেছেন ওই শিক্ষিকা, আমি অনুরোধ করবো যে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবিষয়টি দেখেন তারা যদি এখনো এ বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে থাকেন তারা যেন ইমিডিয়েটলি এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন এ আশা করি। আশা করি তারা দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন ও পদক্ষেপ নেবেন।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সকালে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এ- মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকা ড. লতা সমাদ্দারকে ফার্মগেট এলাকায় প্রকাশ্যে একজন পুলিশ কর্মী ইভ টিচিং করেন ও অপ্রকাশ্য ভাষায় কুৎসিত কথা বার্তা বলে অসম্সান করেন। লতা সমাদ্দার এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ কর্মী শিক্ষকার পায়ের ওপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে চলে যান। এনিয়ে ওই দিনই তিনি শেরে বাংলা নগর থানায় অভিযোগ/ মামলা দায়েল করেন।
আপনার মন্তব্য