দিরাই প্রতিনিধি

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৪৭

কালবৈশাখীতে ৫০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ, বজ্রপাতে মারা গেলো ১৩ গরু

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে কালবৈশাখীর তান্ডব ও শিলাবৃষ্টিতে হাওরে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে এক কৃষক ও ১৩ টি গরু মারা মারা গেছে।

শনিবার দিনের ৩ টার দিকে হঠাৎ করে আসা কালবৈশাখী তুমুল ঝড় শিলাবৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে নিহত কৃষক লিটন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লিটন চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া(আশনাবাজ) গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, শিলাবৃষ্টিতে রফিনগর ইউনিয়নের এলাকার কালিয়াকুটা হাওরের শিলাবৃষ্টির কবলে বরো ধানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।

রফিনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রেমানন্দ চৌধুরী জানান, শিলাবৃষ্টির তান্ডবে হাওরের সমস্ত ধান ঝরে গেছে। বলুনপুর ৮ টি ও জগন্নাথপুর গ্রামের ৫ টি গরু সত্যেন্দ্র পরকায়স্থ, বিজয় সরকার, সুদিপ সরকার, রতন সরকার ও রানা সরকার সহ তার ওয়ার্ডে মোট ১৩ গরু মারা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়া গরু সাতারিয়ে নদী পাড় হওয়ার সময় গরুগুলো মারা যায়। হাওরপাড়ের কৃষকের মাঝে চলছে বুকফাটা কান্না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের বলনপুর ব্লকের পাগনার হাওড়ের সমীপুর, নোয়াগাঁও, গাজিয়ার, বলনপুর ও রফিনগর ব্লকের রামজীবনপুরের কালিকুটা হাওড়ে শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি হযেছে। এছাড়াও চরনারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।এই ইউনিয়নের এলংজুড়ি, পেরুয়া, মধুপুর, শেরপুর, কানুপুর, আলীপুর, শতানন্দপুর, বক্তারপুর, হাছনাবাদ, নুরপুর এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে কবলিত হয়েছে। এর মধ্যে এলংজুড়ি, আলীপুরে বেশী ক্ষতি হয়েছে।

এতে করে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোন জমিতে ৭০ শতাংশ কোন জমিতে ৪০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। রোববার মাঠজরিপে পূর্নাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত করা যাবে।

ঝড় শিলাবৃষ্টি কবলিত এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বরো ধানের ক্ষতির পাশাপাশি ১৩ টি গরু মৃত্যুসহ ছোট-বড় কয়েকটি নৌকা প্রবল ঝড় উড়িয়ে নিয়ে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। হাওরপাড়ের কৃষকদের মাঝে চলছে বুকফাটা কান্না। কালবৈশাখী তান্ডবে বিদস্থ জনজীবন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত