১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:৩৮
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরবেলা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ এর শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
বিকেলে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয় গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজনে "জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি: মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণের কোন পথে আমরা শীর্ষক আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় শহীদ সন্তান সাইদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন পরিবারের উপর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসরদের অত্যাচারের কথা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার মাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জবাই করে হত্যা করে পাকিস্তানি হায়েনা আর তাদের দোসর এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীরা।
এই শহীদ সন্তান আরও বলেন, "গণজাগরণ মঞ্চ এবং শহীদ পরিবারগুলো জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার যে দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে, সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। জামায়াতের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রজেক্ট বন্ধ করতে হবে। জামাতের অর্থের যোগান বন্ধ না করা হলে পাকিস্তানি মৌলবাদী মতাদর্শের এই যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের দেশবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না"।
আলোচনা সভায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, "৪৪ বছরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সফলতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ। আর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এই যে, আমরা ত্রিশ লক্ষ শহীদ পরিবারের কোনো খোঁজখবর রাখতে পারিনি। রাষ্ট্র তাদের কোনো দায়িত্ব নেয়নি। এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চরমতম ব্যর্থতা"।
ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, "শুধু দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতায় আমরা ত্রিশ লক্ষ শহীদের কথা বলি। কিন্তু তাদের স্বজনেরা কেমন আছেন, কীভাবে তাদের জীবন চলে তার কোনো খোঁজ আমরা রাখিনি। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন তখনই করা হবে, যখন আমরা শুধু দিবস পালনে সীমাবদ্ধ না থেকে শহীদ পরিবার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করবো, তাদের সুখ-দুঃখের কথা জানার চেষ্টা করবো। রাষ্ট্রকে এই ত্রিশ লাখ শহিদ পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিতে হবে"।
তিনি আরও বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এদেশের প্রতিটি মানুষ, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের উচিত পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করা।
যতদিন পাকিস্তান তার ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে গণহত্যার দায় স্বীকার না করে, ততদিন পাকিস্তানের সাথে কোনো সম্পর্ক নয়"।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিলানী শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ হাবিব রুম্মন, ভাস্কর রাসা প্রমুখ।

আলোচনা সভার শুরুতে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। সন্ধ্যায় শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলোর মিছিল এবং শাহবাগে আলোক প্রজ্জ্বলন করা হয়।
"কাদামাখা মাইক্রোবাস" শিরোনামের নাটক পরিবেশন করে চট্টগ্রামের নাট্যদল "জয় বাংলা"।
বিজয় দিবস উপলক্ষে গণজাগরণ মঞ্চ এবং বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনব্যাপী "বিজয় ২০১৫" উৎসবে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয় গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে।
১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে সময়ে আত্মসমর্পণ করেছিলো, ঠিক সে সময় বিকাল ৪.৩১ মিনিটে সারা বিশ্বের সকল বাঙালিকে একযোগে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার আমন্ত্রণ জানান গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।
আপনার মন্তব্য