২৫ জুন, ২০২২ ১২:৩৮
বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক গর্বিত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেকটর মার্সি টেম্বন। বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনই। পদ্মা সেতু সম্পন্ন করতে পারায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান তিনি।
পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের আসনে বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধিকে হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ও তার ভাব ব্যক্ত করেন।
বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেকটর মার্সি টেম্বন বলেন, অনেক দীর্ঘ সময় ধরেই বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। বিশ্ব ব্যাংক মনে করে যে পদ্মা সেতু সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক একটি প্রোজেক্ট। বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং ব্যবসা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে পদ্মা সেতু দারুণ অবদান রাখবে। দারিদ্র দূরীকরণেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিশ্ব ব্যাংক অত্যন্ত আনন্দিত যে সেতুর নির্মাণ শেষ হয়েছে এজন্য বাংলাদেশের মানুষকে অনেক অভিনন্দন।
মার্সি টেম্বন বলেন, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার। আমরা এই সেতুর গুরুত্ব বুঝতে পারি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। পদ্মা সেতুর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভ্রমণের সময় কমে আসবে। কম সময়ে কৃষক তার খামারে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ করতে পারবেন। সবমিলে পদ্মা সেতু এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, দারিদ্র্যও কমিয়ে আনবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেকটর বলেন, দেখুন, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সাথে আছে ১৯৭১ সাল থেকে এবং এখন পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। ২০১১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক ২২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সহযোগিতা দিয়েছে। বুঝতেই পারছেন যে, বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংক পরস্পরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমরা এখানে সেতু নির্মাণ উদযাপন করতে এসেছি। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশিদের জন্য খুবই গর্বের দিন, আমরাও তাদেরকে নিয়ে গর্বিত। আমি মনে করি আমাদের সামনে আগানো উচিত। আমাদের দেখা উচিত কীভাবে সেতুটি নির্মাণ শেষ হল এবং এতে সবাই কতোটা খুশি হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্ব ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পিছু হটেছিল। এ নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের পথে এগিয়ে যায়। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার নির্মিত সেই সেতুর উদ্বোধন হয়েছে আজ শনিবার।
এদিকে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলেছিল, তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি। এ নিয়ে কানাডার আদালতে মামলাও হয়েছিল, কিন্তু তা টেকেনি।
আপনার মন্তব্য