সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৯:৪৪

জ্যাকেটে বোমা নিয়ে সবার আগে মসজিদে ঢুকেছিল হামলাকারী

রাজশাহীর বাগমারার মচমৈল চকপাড়ায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জামে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীকে এই এলাকার কেউ চিনতেন না। শুক্রবারে জুমার আজান দেয়ার সাথে সাথে সবার আগে  সে ঐ মসজিদে প্রবেশ করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


মসজিদে ঢুকেই সে মোয়াজ্জিনকে বলে, "এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছি,নামাজ পড়তে চাই।"

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) জুমার নামাজে শেষ হবার সময়ই বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতি হামলাকারী। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়, আহত হন বেশ কয়েকজন।

হামলায় মারাত্মক আহত দুই মুসল্লি ময়েজ উদ্দিন আর সাহেব আলী জানান, "চকপাড়া আহমেদিয়া জামে মসজিদে সাধারণত দুই থেকে তিন কাতার মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেন। দুপুর দেড়টায় জামাত শুরুর কথা থাকলেও খুতবা শেষ হওয়ায় ১টা ২৫ মিনিটে নামাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় রাকাতে যাওয়ার সময় ওই বোমা হামলাকারী তার কোমড় থেকে কিছু একটা বের করছে এমন বুঝতে পেরে নড়ে ওঠেন ময়েজ। এতে হামলাকারীর শরীরেই বোমা বিস্ফোরিত হয়।"

মুসল্লি ময়েজ উদ্দিন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘জ্যাকেট পরা যুবকটি আমার পাশেই বসে নামাজ আদায় করছিলেন। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরেই দেখি আমার তলপেট থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। পাশেই যুবকটির রক্তাক্ত দেহ। বিস্ফোরণের পরেই বন্ধ হয়ে যায় নামাজ। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সাহেব আলী আরো জানান, জ্যাকেটের ভেতর লুকিয়ে রাখা ছিল বোমা। নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটায় সে।

উল্লেখ্য শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজশাহীর উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সৈয়দপুর চকপাড়া নামক গ্রামের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে ওই আত্মঘাতী হামলাকারী নিহত এবং কমপক্ষে ৩ জন গুরুতর আহত হন।  আহতদের মধ্যে ময়েজ (৪০), সাহেব আলী (৩৫), পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নয়ন (১২)কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এই নিয়ে টানা দুই শুক্রবার দেশের দুই প্রান্তের দুটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

গত শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর সংরক্ষিত এলাকায় দু’টি মসজিদে বোমা হামলার  পরের সপ্তাহেই এই ঘটনা ঘটল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত