নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৪:৫৫

আনসারুল্লাহকে চিনি না, খুন করেছে জামায়াত-শিবির : রাজীবের বাবা

ব্লগার ও স্থপতি আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন। তিনি নিহত ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার বাদীও।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার ৩নং দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সাঈদ আহমেদ মামলার রায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম দীপ ও ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

রায় পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করেছে জামায়াত-শিবির। আমি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, রাহমানী এদেরকে চিনি না। কাজেই প্রভাবিত এ রায়কে আমি প্রত্যাখ্যান করি।

রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের এ প্রতিক্রিয়া প্রচার করেছে একাত্তর টেলিভিশন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বাসায় ফেরার পথে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনকে (থাবাবাবা) পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে ধর্মীয় জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে। ব্লগার পরিচয়ের বাইরেও রাজীব ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগ গণজাগরণ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।

রাজীব হায়দার ছিলেন প্রথম ব্লগার যিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় জঙ্গিদের কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর ২০১৫ সালে এক বছরে আরও ৪ ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করে ধর্মীয় মৌলবাদীরা। এ হত্যাকাণ্ডের শিকার অপরাপর ব্লগাররা হলেন- অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নিলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় (নিলয় নীল)। ২০১৫ সালে অপর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন প্রগতিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফায়সাল আরেফিন দীপন, যিনি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ছিলেন।

মামলার রায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম দীপ ও ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানার মৃতুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রানা প্রথম থেকেই পলাতক রয়েছেন।

আর মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

পাঁচজনের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত