০৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:৪১
ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চ আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।
সোমবারের মত আজ মঙ্গলবারও দ্বিতীয় দিনের মত আজও শুনানি হবে হাইকোর্টে। সোমবার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম পেপার বুক পড়া শুরু করেছেন। এ মামলায় ১০১৩ পৃষ্ঠার পেপার বুক রয়েছে।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ অন্য ছয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের পর আসামিদের করা আপিলের শুনানি সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির।
আতিকুল হক বলেন, “আপিল শুনানির শুরুতে বিচারপতিদেরকে মামলার প্রাথমিক বিষয়গুলো বলতে হয়। সেটা আমরা করেছি।
“পাশাপাশি মামলার এফআইআর, চার্জশিট ও চার্জ পড়েছি। প্রাথমিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, কতজন আসামি, কোন ধারায় কার শাস্তি হয়েছে, কারও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে কি-না ইত্যাদি। এগুলো বলেছি।।”
যাবজ্জীবন পাওয়া আসামি মাকসুদুল হাসান অনিকের পক্ষে আদালতে ছিলেন আব্দুর রেজ্জাক খান। বিচারিক আদালতের রায়ে মুফতি রাহমানীর ‘লঘুদণ্ডে’ অসন্তুষ্ট রাজীবের বাবা নাজিম উদ্দিন আপিল করবেন বরে জানালেও রাষ্ট্রপক্ষে কোনো আপিল হয়নি।
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। ব্লগে লেখালেখির কারণে জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকির মুখে থাকা রাজীব হত্যার পর সন্দেহের তীর ছিল উগ্রপন্থিদের দিকে।
রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের করা মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি মুফতী রাহমানী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। ওই বছরের ১৮ মার্চ তাদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।
ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ এই মামলার রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের কারাদণ্ডাদেশ দেন।
রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসির আদেশ হয়। ওই দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানাও হয়। অন্যদের মধ্যে মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ হয়। সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। মুফতি রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়।
হত্যার উসকানিদাতা হিসেবে মুফতি রাহমানীর যে দণ্ড হয়েছিল, তাতে অসন্তোষ জানিয়ে রাজীবের বাবা নাজিম বলেছিলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, ব্লগার, লেখক-প্রকাশকদের হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রাজীব হত্যার রায়ই প্রথম হয়।
আপনার মন্তব্য