৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:৩০
ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারক। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক বলেন, “তদন্ত ঠিকমতো হলে রাজিব যে তার বাসা থেকে তার বান্ধবী তানজিলার সাথে বেরিয়ে গেল- তার জবানবন্দি নিতে পারতেন আইও। আমাদের আসলে সবাইকে বিবেক নিয়ে চলতে হবে, ধৈর্য্য নিয়ে চলতে হবে।”
কেবল আদালতের দিকে তাকিয়ে না থেকে সবাইকে নিজেদের অবস্থান থেকে বিবেক-বিবেচনা খাটিয়ে চলার পরামর্শ দেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘােষণা করা হয়। এটিই প্রথম কোনো ব্লগার হত্যা মামলার রায়। যাতে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীন এবং আরও পাঁচজনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষনে বিচারক বলেন, “আমরা যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেই, তাহলে তো দেশ চলবে না। সামান্য অপরাধেই যদি আমরা এক এক জনের চোখ তুলে ফেলি তাহলে দেখা যাবে ১৬ কোটি মানুষেরই চোখ নেই, অন্ধ হয়ে গেছি।”
তিনি বলেন, ''সবাই আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। ব্লগ লিখেছে তো কি হয়েছে? আইন কারও নিজের হাতে তুলে নেয়া উচিত নয়। পুলিশ, আইনজীবী- সবার এগিয়ে আসতে হবে এ বিষয়ে। শুধু আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। কি বলব… আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ক্রসফায়ার দিচ্ছে!”
ওই হত্যার আলামত মিললেও তদন্ত কর্মকর্তা চাক্ষুষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি জানিয়ে বিচারক বলেন, “তদন্তের গতি অনেক লম্বা হয়েছে; আসামিপক্ষ থেকে কেউ সাজা কমানোর দাবি করেনি। সবাই খালাস চেয়েছেন – কিন্তু খালাস দেওয়ার মতো কাউকে পাইনি। হত্যায় অংশগ্রহণের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
আপনার মন্তব্য