০৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ২৩:৩৩
তাবলীগ জামাতের বৃহৎ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের শেষ হচ্ছে রোববার সকালের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া এই সম্মিলনের প্রথম পর্বে লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবারের মতো শনিবারও দেখা যায় লাখো মুসল্লি বয়ান শুনতে আসেন তুরাগ তীরে। বিকেলের দিকে জনস্রোত আরো বাড়তে থাকে। মানুষের ঢল কালকের আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের ইজতেমায় দেশের ১৭টি জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি ৯৫টি দেশের ৭ হাজার ১৫২ জন বিদেশিও অংশ নিয়েছেন।
২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছিল। এবার থেকে দুই বছরে চার পর্বে দেশের ৬৪ জেলার তাবলিগ সদস্যদের জন্য ইজতেমায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে।
এরপর ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব, যাতে অংশ নেবেন ১৫টি জেলার মুসলমানরা। এর বাইরে দেশের বাকি ৩২টি জেলার মানুষ আগামী বছর দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নেবেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানিয়েছেন, আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, দিল্লীর মাওলানা সাদ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।
বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শুক্রবার থেকেই শুরু হয় ট্রেন ও বিআরটিসি বাসের স্পেশাল সার্ভিস। স্পেশাল এই সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে- স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় লাখ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে ২৮টি ট্রেন এবং বিআরটিসির ২২৮টি বাস। ২৮টি ট্রেনের সঙ্গে ২০টি অতিরিক্ত কোচও সংযোগ দেয়া হয়েছে।
ইজতেমার প্রথম দুই দিনে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; যাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ।
উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে ইজতেমার জন্য গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে নির্ধারণ করা হয়। পরে সরকারিভাবে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।
আপনার মন্তব্য