সিলেটটুডে ডেস্ক

২৯ আগস্ট, ২০২৪ ১১:৫০

রিজার্ভ কমার আশঙ্কা নেই: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডলারের দর একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থা থাকলে আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। বন্যা যদিও একটু দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। তবে আশা করা যায় এটাও দ্রুত ঠিক হয়ে আসবে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এসব কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিজার্ভ থেকে এখন কোনো ডলার বিক্রি করা হচ্ছে না। তাই রিজার্ভ কমার আশঙ্কা নেই। সরকারের চাহিদা আন্তব্যাংক বাজার থেকে ডলার নিয়ে মেটানো হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘মাস খানেকের মধ্যে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে এবং কমিশনে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিদেশি এক্সপার্ট নেওয়া হবে। শ্রীলঙ্কা কীভাবে করেছে সেটাও দেখা হবে। আমরা ছাপিয়ে আর কোনো টাকা দেব না। সেটা জাতির জন্য ভালো হবে না। তখন মূল্যস্ফীতি শতভাগ বেড়ে যেতে পারে।’

ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, ‘যেটুকু টাকা না তুললে নয়, সেটা তোলেন। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে অবস্থা পরিবর্তন হবে। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত কোনো আমানতকারীর টাকা খোয়া যায়নি। গ্রাহকদের বলব, ধৈর্য ধরেন। একবারে সবাই টাকা তুলতে যাবেন না। তা হলে ব্যাংক টাকা দিতে পারবে না। অনেকে অতিরিক্ত সুদের লোভে টাকা ব্যাংকে রেখেছেন। এখন অধৈর্য হলে হবে না। আমানতের টাকা লস হবে, এটা আমরা চাই না।’

গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদকে এক সপ্তাহের মধ্যে কর্ম পরিকল্পনা দিতে বলা হয়েছে। কাজ করতে হবে, বসে থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা করবে। তারা সহায়ক ভূমিকা পালন না করলে পর্ষদ আবার পরিবর্তন করা হবে। সবাইকে নজরদারি করা হচ্ছে। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের ব্যাংকে বন্ধকীর বাইরে থাকা সম্পত্তি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, ‘এটা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। সম্পদ বিক্রি যেন করতে না পারে সেজন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলব। এ মুহূর্তে তাদের সম্পদ যেন কেউ না কেনে। এ সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।’

ব্যাংক খাতে যেসব মাফিয়া রয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একটা ব্যবসায়ীর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবারই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থার দায় নিয়ে সাবেক দুই গভর্নরের বিষয়ে ড. আহসান বলেন, ‘এখানে সুশাসনের অভাব ছিল। সামনে যে হবে না, তেমন নয়। তবে আমার হাত দিয়ে খারাপ কিছু হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও সংস্কার করতে হবে। কারণ তারাও দায় এড়াতে পারে না।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত