১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:৩৮
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে ও এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল হামিদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
এছাড়া আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমানকে বরখাস্ত এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল হামিদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের আর্মি অ্যাক্ট সেকশন-১৮, আর্মি অ্যাক্ট (রুলস) ১২ (১), আর্মি রেগুলেশন্স (রুলস) ৭৮ (সি), ২৫৩ (সি) (ii), ২৬১, সংশোধিত আর্মি রেগুলেশন্স (রুলস) ২৬২ (৪) ও ২৬৯ (এ), আর্মি রেগুলেশন্স (ইনস্ট্রাকশন্স) ১৬৮ (বি) এবং কমপেনডিয়াম অব মিলিটারি পেনশন-১৯৮১ এর বিধি-৯ (কে) অনুসারে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ প্রদান করা হলো। এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত কর্মকর্তাদের অবসর কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি আদেশে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমানকে বরখাস্ত এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান এর আগে সেনা সদরদপ্তরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। পরে তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক হন।
এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সময় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনা করে মজিবুর রহমান আলোচনায় আসেন। পরে তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) হন।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলমের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। এর আগে, তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আপনার মন্তব্য