২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০১:১৬
পর্বতারোহী শায়লা বিথীর ওপর হামলার প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশ করেছে ‘শক্তি নেটওয়ার্ক’।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডির ২৭ নম্বরের ফুটওভারব্রিজের সামনে এই সমাবেশ করে ওই সংগঠনের নেত্রীরা।
গত শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ২৭ নম্বর ফুটওভারব্রিজে পর্বতারোহী এবং বেঙ্গল নিউজ-২৪ এর সহ-সম্পাদক শায়লা পারভীন বিথীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সরকার পতনের পর চলমান অস্থিরতার সুযোগে এই হামলাগুলো ঘটছে, যা আমাদের সমাজের নিরাপত্তা ও নারীর স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’
সমাবেশে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হামলা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
নাগরিক সমাবেশে নেত্রীরা বলেছেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামে, পর্যটন স্পট থেকে শুরু করে মেট্রোরেল, বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বয়সের নারীকে হয়রানি করা হচ্ছে। পোশাক নিয়ে কটু মন্তব্য, নিপীড়নমূলক আচরণ, শারীরিক লাঞ্ছনা, যৌন হয়রানি, গণধর্ষণসহ নানা ধরনের হয়রানির ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।’
নেত্রীরা বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদ জানাতে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের ফুটওভারব্রিজের সামনে সমবেত হয়েছি। এখানে দুই দিন আগে শায়লাকে আক্রমণ করা হয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো শায়লাসহ দেশের প্রতিটি নারীর ওপর সংঘটিত হামলা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।’
এ সময় ৭টি দাবিও তুলে ধরে শক্তি নেটওয়ার্ক। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শায়লা বিথীর ওপর হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সুযোগে পাবলিক স্পেসে নারীর ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলা ও নিপীড়ন তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তাঘাট, পাবলিক স্পেস এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে নারীর ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন নিরসনে পুলিশের স্পেশাল সেল খুলতে হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ টিমে ‘স্ট্রিট হ্যারাসমেন্ট’ প্রতিরোধে পুলিশের নারী সদস্য থাকতে হবে। প্রতিটি জেলা শহর, থানা ও গ্রামের জনপ্রশাসন ও পুলিশ ফোর্সকে নারীদের প্রতি হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের যেকোনো ঘটনাকে জিরো টলারেন্স হিসেবে ঘোষণা করে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংবাদপত্রে একটি আলাদা ট্যাব বা পাতা নারীর ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ প্রচার করবে। প্রতিটি ঘটনা আইনি প্রক্রিয়ার কোন স্তরে রয়েছে, তা নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ‘আজ শায়লা, কাল হতে পারে আমি, আপনি অথবা আমাদের পরিবারের কেউ। তাই আমাদের সবাইকে এক হয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি, চুপ না থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ান। আসুন, আমরা একসঙ্গে এসব সহিংসতা ও হামলার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি।’
আপনার মন্তব্য