সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ মে, ২০২৫ ১৮:১২

ফজলুর রহমানের মন্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আ ল ম ফজলুর রহমানের মন্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে সরকারের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২ মে) মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার স্পষ্ট করে বলতে চায়- ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে করা সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো কেবল ব্যক্তিগতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এই মন্তব্য বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন ঘটায় না এবং তাই সরকার কোনোভাবেই এই ধরনের বক্তব্যকে সমর্থন করে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট সকলকে ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত মন্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্ত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ সকল জাতির সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, পিলখানায় সংঘটিত  হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আ. ল. ম. ফজলুর রহমান। তিনি গত ২৯ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন: ‘ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিৎ হবে উত্তর পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেয়া। এব্যাপারে চীনের সাথে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।’

এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং অন্যদের কাছ থেকেও তা প্রত্যাশা করে। বিডিআর কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ এল এম ফজলুর রহমান গতকাল তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে যে মন্তব্য করেছেন তা তার ব্যক্তিগত অভিমত। অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই তার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে না।’

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘মেজর জেনারেল ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত মতামতকে সরকারের মতামত হিসেবে বিবেচনা না করার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রেস সচিবের এ মন্তব্যের পর ফজলুর রহমান ফের তার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। ১ মে সন্ধ্যায় তিনি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে লেখেন: "ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিৎ হবে উত্তর পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেয়া। এব্যাপারে চীনের সাথে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।"

একথা আমি বলেছি। কেন বলেছি তার বিশ্লেষণ হলো ভারতের বিজেপি সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে যে ভারতে " এন আর সি" বা নাগরিক পুঞ্জি করে ভারতের মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে আবদ্ধ করে মুসলমানদের হত্যা করা। কিংবা ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে পুশ করে পাঠিয়ে দেয়া। এই পরিকল্পনা ভারত নিয়েছে ইসরাইলের কাছ থেকে। আপনারা লক্ষ্য করছেন কিভাবে ভারতে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে।

এই উপমহাদেশে মূলত দুটি মুসলমান দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। মালদ্বীপ এতো ছোট আর সামরিক ভাবে দুর্বল যে ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার কোনো দায়িত্ব মালদ্বীপ পালন করতে পারবেনা। তাহলে ভারতে মুসলমানদের জান এবং মাল রক্ষার মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে। এইতো কয়দিন আগে ভারতে মুসলমানদের ওকফ সম্পত্তির সবটাই বিজেপি সরকার কেড়ে নিয়েছে।আর কিছুদিনের মধ্যেই ভারতে মুসলমানদের মুর্দাকে কবর দেওয়ার জায়গা পাওয়া যাবেনা। ভারতে কোনো মাদ্রাসা , মসজিদ থাকবেনা। কারণ শত শত মসজিদ , মাদ্রাসা ওয়াকফ জমির উপর অবস্থিত এবং ওয়াকফের টাকায় চলে। ওয়াকফ না থাকলে এইসব মসজিদ থাকবেনা। মাদ্রাসাও থাকবেনা। ইতিমধ্যেই ভারতের সরকার রাস্তা এবং খোলা স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছে। অথচ হিন্দুরা রাস্তায় হোলি খেলছে এবং রাস্তায় দলবেঁধে অনুষ্ঠান করছে বাধাহীন ভাবে।

এবারে নরেন্দ্র মোদী সরকার পাহেলগামে নিজেরা পর্যটকদের হত্যা করে পাকিস্তানের উপরে দোষ চাপিয়ে পাকিস্তান আক্রমণ করে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে। যদি ভারত পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয় তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি ভারতের হুমকি কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে কল্পনা করতে পারেন! তাই পাকিস্তানকে সামরিকভাবে রক্ষা করা এখন আমাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এর মানে এই নয় যে আমাদেরকে পাকিস্তানের বন্ধু হতে হবে। এটা একটা স্ট্রাটেজিক বিষয়। পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়। যদি ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করে তবে চীনের সঙ্গে মিলে ভারতের উত্তর পূর্ব সাত রাজ্যকে দখলে নেয়া এটা ভারতের পাকিস্তান আক্রমণের রিজিওনাল ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া। যাতে ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করতে উৎসাহিত না হয়।

যারা সামরিক স্ট্রাটেজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন তারা অযথা এমন বিষয়ে মন্তব্য করে সময় নষ্ট করবেননা দয়া করে। এই উপমহাদেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে এর জন্য দায়ী ভারত। বাংলাদেশ বলেন পাকিস্তান বলেন আমরা কারো দেশ দখল করে দেশের সীমানা বৃদ্ধি করতে চাই না। আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নিয়ে ব্যস্ত। এই লড়াইয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে মাঠে নামিয়েছে ভারত। শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায় কে? ভারত। এর পরেও কি আমরা হাত গুটিয়ে বসে থেকে নিজের অস্তিত্ব নিজেরা ধ্বংস করবো? আমাদের সতেরো কেটি মানুষ আছে। আমরা আমাদের শত্রুকে অবশ্য অবশ্যই ধ্বংস করতে সক্ষম। আসুন আমার সাথে শপথ নেই। লড়বো শত্রুকে ধ্বংস করবো এবং গাজি হয়ে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে বলবো আমার কাছে সব চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই উপমহাদেশে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করা। মুসলমান বান্ধব মানুষদের স্বার্থ রক্ষা করা। কে কি ভাবলো তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নাই।

১ মে অপর এক স্ট্যাটাসে ফজলুর রহমান আবারও লেখেন: ...আমার কাছে সব চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই উপমহাদেশে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করা। মুসলমান বান্ধব মানুষদের স্বার্থ রক্ষা করা। কে কি ভাবলো তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নাই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত