সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ মে, ২০২৫ ০১:৩৪

‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজের মাথায় বোতল নিক্ষেপ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছুড়ে মারা বোতলে মাথায় আঘাত পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এসময় উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতেও শনা যায়।

বুধবার রাত ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাস ভবনের কাছে কাকরাইল মসজিদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এদিন দুপুর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল ওই মসজিদের সামনেই। রাত ১০টার দিকে সেখানে কথা বলতে যান উপদেষ্টা মাহফুজ।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে দাবি নিয়ে এসেছিলেন গতকাল রাতে, আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমরা রাতে বসব। আগামীকাল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হবে। আমরা বসে কথা বলে এটার সমাধান করব।”

এদিকে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের পাশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিপেটা করে। এই ঘটনায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই বাধে বিপত্তি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে মাহফুজ বলেন, “আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আন্দোলনে পুলিশের কিছু সদস্য হয়তো আপনার উসকানি…।”

এই কথা শেষ না হতেই শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাম দিক থেকে আধা লিটারের একটি পানির বোতল পানিসহ উপদেষ্টা মাহফুজের মাথায় ছুড়ে মারেন কেউ একজন। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান।

এর পর বাম হাতে মাইকের মাউথ ধরে ডান হাত নেড়ে তিনি দুইবার বলেন, “আমি আর কথা বলব না।” এর পর তিনি পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থান ত্যাগ করার সময়ও শিক্ষার্থীদের দিক থেকে ‘ভুয়া, ভুয়া’’ স্লোগান শোনা যায়।

এর কিছুক্ষণ পরে মাহফুজ আবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন।

নিজের ওপর বোতল ছুড়ে মারার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা যদি সিটিং একজন মন্ত্রীর ওপর হামলা করতে পারে, তারা পুলিশের ওপর কী করেছে সেটা আমি বলতে চাই না।

মাহফুজ আরও বলেন, “কথা ছিল আমার সাথে তাদের মিটিং হবে। সেই মিটিং তারা করেননি। শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গেও মিটিংয়ের কথা থাকলেও তারা করেননি। তারা এতটুকুতেই এখানে (যমুনা) চলে এসেছেন।”

আমরা শুধু এটাই বলতে চাই, ‘চল চল যাই যমুনায় চল’ আজকে থেকে এই রাজনীতি, এই মুভমেন্ট আমরা আর হতে দেব না। যথেষ্ট হয়েছে। আমরা এই ব্যাপারে স্ট্রিক্ট (কঠোর) ভূমিকায় অবতীর্ণ হব।”

“শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এমন কাজ করেছেন তারা অনেক বড় ভুল করেছেন।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনাদের ওপরে পুলিশের অবস্থানকে আপনারাই ন্যায্যতা দিলেন অপকর্মের মাধ্যমে।”

তার কথায় উঠে এসেছে স্যাবোটাজ (অপরাধ এমনভাবে করা যাতে দোষ অন্যের ওপর যায়) প্রসঙ্গও।

মাহফুজ বলেন, যারা স্যাবোটাজ করার অভিপ্রায়ে এখানে এসেছেন, শিক্ষার্থীদের উচিৎ তাদের আলাদা করা। তাদের শাস্তির আওতায় আনা নিশ্চিত করা। প্রশাসনকে সহযোগিতা করা।

দাবি সঠিক হয়ে থাকলে তার ন্যায্যতা আমরা অস্বীকার করব না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, কীভাবে এই মিছিলটা হুট করে সেই পুরান ঢাকা থেকে কাকরাইল পর্যন্ত এসেছে আমরা জানি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলতে চাই, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে তাদের ওপর প্রথমেই ফোর্স প্রয়োগ করবেন না। তাদের সঙ্গে ডায়ালগ করবেন।

এসময় পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন মাহফুজ।

প্রতিক্রিয়া

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ)
উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গায়ে বোতল ছুঁড়ে মারার ঘটনা ন্যাক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ) প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত। বুধবার (১৪ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটি কোনোভাবেই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত বর্ধনশীল অসহিষ্ণুতা আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার—কিন্তু শারীরিক লাঞ্ছনা-বর্বরতা এবং সেটির কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা নেই।

বুধবার (১৪ মে) রাত ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে মাহফুজ আলম সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ কথা স্পষ্টভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—আপনাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি বলেই তিনি আপনাদের কাছে এসেছেন। কিন্তু এ ধরনের উগ্র ও হঠকারী আচরণ ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, ‘মাহফুজ আলম আইনি পথে হাঁটবে কি না জানি না, তবে আন্দোলনের নেতৃত্বের উচিত প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।’

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণও সন্দেহজনক উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘সকল জনদাবির সম্মুখে ছাত্র উপদেষ্টাদের ঠেলে দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটির বিষয়ে কেন এখনও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেটিও এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।’

ইসলামি ছাত্রশিবির
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল ছুঁড়ে মারার ঘটনাকে হটকারী আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বুধবার (১৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ৩ দফা ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা মাহফুজ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের সময় তার ওপর পানির বোতল নিক্ষেপ করা সুন্দর হয়নি। এটা হটকারী আচরণ হয়েছে।’

তিনি আরও লিখেন, ‘যিনি নিক্ষেপ করেছেন টোটাল আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যৌক্তিক সাইন বলে মনে করি। তিনি যেই হোক প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের উচিত তাকে খুঁজে বের করে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত