সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ মে, ২০২৫ ১১:৩৯

বিদেশি নাগরিক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হলেন, প্রশ্ন সালাহউদ্দিনের

বিদেশি নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেলেন- এ নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, “আপনি (ড. ইউনূস) একজন বিদেশি নাগরিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বানিয়েছেন। আমাদের দেশের সেনাবাহিনী কীভাবে একজন বিদেশি নাগরিকের কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করবে৷ তিনি তো বাংলাদেশের জন্য নয়, তার দেশের জন্য কাজ করবেন।”

শনিবার (১৭ মে) খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার পায়তারা করা হচ্ছে। আপনি কার সঙ্গে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নিলেন। ড. ইউনূসকে বলবো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিদায় করুন। তিনি বাংলাদেশকে অস্থির করার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।”

তিনি বলেন, “আপনি বিদেশে গিয়ে কি চুক্তি করে এসেছেন সেটা আমরা জানি না। আপনি নদী বন্দর, করিডোর সব বিদেশিদের দেবেন, এই ম্যান্ডেট আপনাকে কে দিয়েছে? আপনার একমাত্র কাজ হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। আপনি সেটি করে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিন।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই ছাত্র প্রতিনিধির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের সরকারকে অনেকে এনসিপির সরকার বলছেন। কেন বলছে? কারণ আপনার সরকারে দুইজন এনসিপির প্রতিনিধি রয়েছেন। আপনি যদি নিরপেক্ষ থাকতে চান তাহলে তাদের পদত্যাগ করতে বলুন। যদি পদত্যাগ না করে তাহলে তাদের বিদায় করুন।”

জনগণ তাদের হারানো ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায় উল্লেখ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “গত কয়েকটি নির্বাচনে আপনারা কেউ-ই ভোট দিতে পারোনি। ৪ কোটি তরুণ এখনো গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি। আমরা অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান দেখেছি, শহীদের রক্তে সিক্ত স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। এমন এক বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে গণতন্ত্রের, ভোটের বা ন্যায়বিচারের জন্য আর কারও রক্ত ঝরবে না, কোনো বৈষম্যও থাকবে না।”

সরকারকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার শেষ করে ডিসেম্বরে মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অনেক উপদেষ্টা আজীবন ক্ষমতায় থাকার বাসনা দেখছেন। আপনারা অসীম ক্ষমতাধর নন।”

যদি নির্বাচনের জন্য যমুনা ক্ষেরাও করতে হয় তাহলে জাতির জন্য দুভাগ্য বয়ে আনবে দাবি করে তিনি বলেন, “আপনি কি চান আমরা যমুনার উদ্দেশ্যে লংমার্চ করি? এটা করতে হলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। ড. ইউনূসকে হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই- আপনি দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করুন।”

সংস্কার ও বিচার চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংস্কার ও বিচার চলমান প্রক্রিয়া। এগুলো চলমান থাকবে। আপনি বাংলাদেরশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবেন না। আপনার উপদেষ্টা পরিষদের ফ্যাসিবাদের দোসর, বিদেশি রাষ্ট্রের এজেন্ট রয়েছে- তাদের দ্রুত অপসারণ করুন। তা না হলে আপনি সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিয়ে পারবেন না।”

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসকে জানতে হবে। অতীত ও বর্তমান দুটোকেই ধারণ করতে হবে। এ দেশে একসময় হত্যা-রাজনীতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্বখ্যাত স্বৈরাচার আমাদের ওপর নির্মম নিপীড়ন চালিয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। কিন্তু তারা গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি। আজও তারা দিল্লিতে বসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার মাটিতে কিন্তু তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”

এর আগে বেলা তিনটার দিকে জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুধু হয় তারুণ্যের সমাবেশ। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিরের সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এস. এম. জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত