২২ জুলাই, ২০২৫ ০০:০০
ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর নিহত হয়েছেন। মাত্র ছয় মাস আগে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন এই তরুণ পাইলট। কিন্তু স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল হঠাৎই, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায়।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
প্রশিক্ষণের সব ধাপ শেষে তৌকির ইসলাম প্রথমবারের মতো একা প্রশিক্ষণ বিমান চালাবেন—এ খবরে পরিবারের সদস্যরা সোমবার সকাল থেকেই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর সেই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পান তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় সব উচ্ছ্বাস। বিকেলে রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকায় তৌকিরদের বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কিছুক্ষণ পরপর কান্নার রোল ভেসে আসতে শোনা যায়।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আজ দুপুরে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত বৈমানিকসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে।
নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের ডাকনাম সাগর। তাদের পরিবার রাজশাহী নগরের উপশহর ৩ নম্বর সেক্টরের আশ্রয় ভবন নামে একটি বাসায় ভাড়া থাকে। তাঁর বাবা তহুরুল ইসলাম, মা সালেহা খাতুন, বোন সৃষ্টি ও ভগ্নিপতি সেই বাড়িতে থাকতেন। বাবা আমদানি–রপ্তানির ব্যবসা করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট এলাকায়।
পাইলট তৌকিরের মেজ চাচা মতিউর রহমান জানান, 'সাগরের বিয়েটা মাত্র ছয় মাস আগে হয়েছে। এখনও কোনো সন্তান হয়নি। সে সম্প্রতি রাজশাহীতে এসেছিল পরিবার দেখতে। দুপুরে হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর পেলাম।'
সাগরের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর রাজশাহীর উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরে তার বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে বাড়ির পরিবেশ।
আপনার মন্তব্য