২৯ জুলাই, ২০২৫ ২১:১০
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি, এ ঘটনায় কোনো আটক বা গ্রেপ্তার নেই।
শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত দফায় দফায় হামলার পর মঙ্গলবার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্বেও মানুষজনের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ফের হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন বাড়িঘরে থাকা লোকজন। কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত করে দিচ্ছে প্রশাসন। মঙ্গলবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িগুলো মেরামত শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গ্রামে এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আলদাদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ভাঙা টিন খুলে নতুন টিন লাগানো হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা মেরামত কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাশাপাশি হিন্দু পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ২২টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ তাদের বাড়িঘর ঠিকঠাক করে দিচ্ছি। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।’
এখন আর আতঙ্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি স্বাভাবিক। একদিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সব ঘর ঠিক করে দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া একটি পরিবার অভিযোগ করেছে তাদের টিউবওয়েল নেই। সেটিও বসিয়ে দেওয়া হবে।'
পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ পেয়ে গত শনিবার রাতে এক কিশোরকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরদিন সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালত তাকে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। ওই কিশোর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা শনিবার রাতে ওই কিশোরের বিচারের দাবিতে মিছিল করে। পরে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। একই সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। পরে রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগে, মাইকিং করে সেখানে লোকজন জড়ো করে ওই হিন্দুপল্লীর অন্তত ১৮টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিএনপির পক্ষ থেকে শাড়ি-লুঙ্গিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্যসচিব আনিছুর রহমান লাকু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, স্থানীয় বিএনপি নেতা সহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বলেন, 'বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভয়ে কিছু পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিলেও তারা ফিরে এসেছেন।'
হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা হচ্ছে। তারা অভিযোগ দায়ের করলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কারা হামলা করেছে, তাদের শনাক্ত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “পাশের উপজেলার (নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা) লোকজন এসে হামলা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে আমরা তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। যারা দায়ী, তাদেরই মামলার আসামি করা হবে।”
আপনার মন্তব্য