সিলেটটুডে ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:৩৩

হোটেলে ‘আগুন দিতে গিয়ে’ মারা যাওয়া ব্যক্তিরাও ‘জুলাই শহীদ’

যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন পাঁচ তারকা হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে লুটপাটের পর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয় গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুরে। এ ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকসহ মোট ২৪ জন প্রাণ হারান।

ওই ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক ছাড়া বাকী অগ্নিসংযোগকারী ২৩ জনের নামই রয়েছে জুলাই শহীদের তালিকায়। জুলাই শহীদদের তালিকা করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রজ্ঞাপনে এই ২৩ জনের নাম রয়েছে। সূত্র্র: প্রথম আলো

জাবির হোটেলটির মালিক যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার।

নিহত এই ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জনের পরিবার অবশ্য দাবি করেছেন, আগুন দিতে গিয়ে নয়, বরং নেভাতে গিয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, নিহত ব্যক্তিরা আন্দোলনে ছিলেন। এ জন্য প্রজ্ঞাপনে তাঁদের নাম থাকা দোষের নয়।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা সঠিক। তবে নিহত ব্যক্তিরা আন্দোলনে ছিলেন। সেই হিসেবেই শহীদের প্রজ্ঞাপনে তাঁদের নাম এসেছে। তিনি বলেন, এর বাইরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফিরোজ আহমেদের মৃত্যুর ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। বিশেষ বিবেচনায় শহীদদের তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল।

জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম আরও বলেন, যেহেতু তাঁদের মৃত্যু নিয়ে কথা এসেছে, এ জন্য যাচাই-বাছাই করে তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, পিআইও ফিরোজ আহমেদের (প্রজ্ঞাপনে নম্বর ৭৯৭) মৃত্যু হয় যশোর সদর থানা এলাকার একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কারণে।

আইনের সংজ্ঞার বাইরে কারও নাম তালিকায় ঢোকানোর সুযোগ আছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীর কাছে। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের ব্যাপারে আইনে যেভাবে, যে ভাষায় বলা আছে, ঠিক সেভাবেই শহীদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রশ্নবিদ্ধ নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নজরে আনা হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, সরকার তালিকাটি আবার যাচাই-বাছাই করছে। এ বিষয়ে গত ২২ জুন দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সূত্র্র: প্রথম আলো

আপনার মন্তব্য

আলোচিত