২১ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করে। প্রতিবছর দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করে বাংলাদেশ।
দিবসটি উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এবং সরকার প্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছালে তিন বাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বাণের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এসময় সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বাণ চত্বরে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সকালে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় গার্ড অফ অনার দেয়। প্রধান উপদেষ্টাও পরে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি শেষে তিন বাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে ১০১ জন নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দিনটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিকাল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিরা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টারা, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ব্যক্তিরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা, বিচারপতিরা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর সাবেক প্রধানরা, সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা, স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরশ্রেষ্ঠর উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা তাদের উত্তরাধিকারীরা, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের শিকার সেনাসদস্যদের স্ত্রী- উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা পুরষ্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিরা, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা, ছাত্র-জনতার জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অতিথি হয়ে যোগ দেবেন অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস ও ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়াও ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিনের কর্মসূচি রয়েছে।
ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ২১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সবার দেখার জন্য নোঙ্গর করা অবস্থায় রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় সম্প্রচার করা হবে ‘বিশেষ অনির্বাণ’।
বাংলাদেশ বেতার শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় প্রচার করবে বিশেষ দুর্বার । এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনগুলো ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে সম্প্রচার করবে।
দিবসটি উপলক্ষে ২১ নভেম্বর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার।
এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপিএত আইএসপিআর জানায়, ২১ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত থাকবে।
ঢাকা সেনানিবাসের রাস্তাগুলো (শহিদ জাহাঙ্গীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা এবং দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সকল যানবাহনকে সেনানিবাস এলাকা দিয়ে চলাচল পরিহার করার অনুরোধ করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য