সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:২৮

প্রার্থীজট সামলানোর চ্যালেঞ্জ ও শরীকদের নিয়ে বিএনপির চিন্তা

ছবি: সংগৃহীত

বিগত সময়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে বিএনপির জোটগত বা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের যে চিন্তা ছিল, তাতে কিছুটা পরিবর্তন আসছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, গত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থায় দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক নির্যাতন ও ত্যাগের শিকার হয়েছেন। ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন । এই ‘প্রার্থীজট’ সামাল দিতে গিয়ে শরিকদের জন্য ঢালাওভাবে আসন ছাড় দেওয়া বিএনপির জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, "এটি জোট নয়; বরং আন্দোলনের কনসেপ্ট অনুযায়ী কিছু আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হবে।"

বিএনপি ইতিমধ্যে দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এতে শরিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে ।তবে বিএনপি আশ্বস্ত করছে যে: নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। সমঝোতার ভিত্তিতে যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হবে, সেখানে ঘোষিত বিএনপির প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হবে। কিছু কিছু আসনে শরিক দলগুলো চাইলে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতীকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

আসন সমঝোতা নিয়ে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার শরিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার কথা রয়েছে বিএনপির। তবে ২৯টি শরিক দলের নেতারা ১০ ডিসেম্বর এক বৈঠকে বিএনপির মনোনয়ন কৌশলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, "পাঁচটা থেকে দুটো আসন দিলে আমার দল বাড়বে কীভাবে? তারা যা-ই দিক, আমরা আমাদের মতো করে নির্বাচন করব।"

শরিক দলগুলোর মধ্যে ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’-কে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলটি ১০টি আসন চাইলে বিএনপি ৪টি আসন ছাড়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে।

এদিকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়আগামী ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে । অন্যদিকে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর পক্ষ থেকেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত অনুমোদন আসার কথা। তিনি লন্ডন থেকে এই সিদ্ধান্ত দেবেন নাকি দেশে ফিরে দেবেন—তা নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের অবর্তমানে নির্বাচন যতটা সহজ মনে করা হয়েছিল, বর্তমানে শরিকদের মানিয়ে নেওয়া এবং দলীয় প্রার্থীজট সামলানো বিএনপির জন্য ততটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত