সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৩

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: মন্ত্রী দিলেন ভুল তথ্য, মন্ত্রণালয় জানাল দুজনই ছিলেন কর্মী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যে তথ্য দিয়েছেন, তা ভুল ছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশিই প্রবাসী কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রী সৌদিতে হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের সম্পর্কিত প্রশ্ন মনে করে উত্তর দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বরাতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বোমা হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন ছিলেন অভিবাসী কর্মী, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায় এবং অন্যজনের কুমিল্লায়। বিমান যোগাযোগ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই তাদের মরদেহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নে জবাবে এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনে প্রবাসী কল্যাণ ডেক্স, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দেওয়া ট্রলি হস্তান্তর করা হয় এ অনুষ্ঠানে।

উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই ট্রলি হস্তান্তরের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

সৌদি আরবে মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ মামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার কার্যকর করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, তাঁরা হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর চিঠি দিয়ে এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি দূতকে ডেকে তথ্য জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। আরিফুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান, জবাব পাওয়া মাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হবে।

১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হন। তখন ট্রলি সংকটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এক কর্মকর্তাকে মারধরের মমালায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিমানবন্দরে ট্রলি সরবরাহ করল ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। মন্ত্রী আরিফুল হক জানান, শাহজালালে ১৫০ এবং ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ২৫ এবং সিলেট বিমানবন্দরে ২৫টি করে ট্রলি দেওয়া হয়েছে।

জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু হতে যাচ্ছে। দুই দেশের স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এ পদ্ধতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়ন হবে। উচ্চ বেতন ও জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাবেন। জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমান আইনি সুরক্ষা পাবেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত