১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৮
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশের মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দ্বিতীয় কোনো দেশ নেই। আল্লাহ্ তাআলার মেহেরবাণীতে- এটা আমাদের গর্ব, অহংকার।
সোমবার রাতে সিলেটের বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এমনটি বলেন।
মন্তী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব হবে, এটি তো বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্মগত অধিকার। কোনোবারই রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের লক্ষ্য পূরণের জন্য নাশকতামূলক কাজ করা ছাড়া কখনোই কোনো শান্তির ব্যাঘাত ঘটেনি। যখন কোনো স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করেছে ব্যাঘাত ঘটানোর, তখনই ব্যাঘাত ঘটেছে।
এরআগে বিকেলে সিলেটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিযোগীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে চলতি মাসেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রেজুলেশন গৃহীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি জানান, এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে গেলেও এর আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে আশা করছেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর বিষয়টি তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এলডিসি উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হবে।
মন্ত্রী বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানিও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সিলেটেও এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী ও এম এ মালিক, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী।
এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া সংগঠকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পর্যায়ে কাবাডি ও ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা সিলেট বিভাগের দুই দলের সদস্যদের সিলেটের সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আপনার মন্তব্য