সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ০১:৫৫

ফারমার্স ব্যাংকের জরিমানা মওকুফ

প্রতিষ্ঠার মাত্র পৌনে তিন বছরের মাথায় অনিয়মের অভিযোগে ফারমার্স ব্যাংকে পরিদর্শক নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, এবং ঋণের তথ্য গোপন করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ লাখ টাকা জরিমানাও করে। এবং ফারমার্স ব্যাংকের ওপর আরোপিত জরিমানা মওকুফ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

ব্যাংকটি ক্ষমা চেয়ে জরিমানা মওকুফের আবেদন করলে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তা গৃহীত হয়। পর্ষদ সূত্র জরিমানা মওকুফের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

২০১৩ সালে জুন মাসে লাইসেন্স পাওয়া ফারমার্স ব্যাংক ৩৮টি শাখা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. সাদিক আহমেদ বলেন, ব্যাংকটিকে যেসব অনিয়মের কারণে জরিমানা করা হয়েছিল, তা তারা শুধরে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি তারা ক্ষমা চেয়ে জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছে। এ কারণে আমরা বলেছি নিয়ম মেনে জরিমানা মওকুফের আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে।

ঋণের তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ফারমার্স ব্যাংককে কেন জরিমানা করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ঋণের তথ্য গোপন করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর ৩ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে জরিমানার বিষয়ে ব্যাংকটিকে রিভিউ চাওয়ার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ আসে। এর পরই ব্যাংকটি জরিমানা মওকুফের আবেদন করে।

পৌনে তিন বছরের কার্যক্রমেই ব্যাংকটিতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সেখানে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়।

এর আগে ঋণ বিতরণে অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালের ১৭ মে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির পদ থেকে মাহবুবুল হক চিশতীকে অপসারণের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু আদালতের চূড়ান্ত আদেশে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পদে বহাল থাকার পক্ষে রায় পান তিনি। সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন মাহবুবুল হক চিশতী। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান তা গ্রহণ করেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে গত ১৩ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করে ব্যাংকটি, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত