০৬ মার্চ, ২০১৬ ১১:৩১
রাজধানীর গুলশান থেকে শনিবার সকালে এক তরুণীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তরুণীটির মুখায়বব দেখে আদিবাসী-ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর গারো সম্প্রদায়ের বলে ধারণা করছে পুলিশ। রাত ৮টা পর্যন্ত তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফেসবুক ও অনলাইনে তার ছবি দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গুলশান-১ এর ১২ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাড়ির দেয়াল ঘেঁষা রাস্তা থেকে আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী ওই তরুণীকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ তার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল গোলাপী কামিজ, কালো ট্রাউজার ও ওড়না। সুরতহালে ওই তরুণীর ঠোঁটে ও থুতনির নিচে জখম, গলার বাম পাশে দেড় ইঞ্চি ও ডান পাশে এক ইঞ্চি কাটা যখমের দাগ ছিল। এছাড়া তার কাঁধে একটি এক ইঞ্চি, বুকের নিচে একটি কাটা ছিদ্র, নাভির ডান পাশে আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি দীর্ঘ সাতটি জখমের চিহ্ন, নাভির নিচে একটি ও বাম উরুতে ২টি কাটা জখম ছিল।
নির্যাতনের ধরন দেখে পুলিশের ধারণা দীর্ঘ সময় ধরে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। অন্য কোথাও তাকে হত্যার পর লাশটি রাস্তায় এনে ফেলে গেছে।
তরুণীর ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক একেএম শফিউজ্জামান। তিনি বলেন, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হওয়ার আলামত পাওয়া যায়নি। ছুরিকাঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
গুলশান ১২ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাড়ির দারোয়ান মতিয়ার রহমান বলেন, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে তিনি এক নারীর লাশ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময়ে তিন যুবককে তিনি দেখতে পেয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জন ১২ নম্বর রোড ধরে এবং একজন ১৩ নম্বর রোড ধরে দ্রুত হেঁটে চলে গেছে। তবে কোনো গাড়ি দেখতে পাননি। পরে বিষয়টি তিনি সবাইকে জানান।
৯ নম্বর বাড়ির দারোয়ান মোফাককের হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি ডিউটি করতে আসেন। ওই সময়ে কোনো গাড়ি বা লোক দেখতে পাননি। কোনো লাশও ছিল না। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে তরুণীটি গারো কিংবা উপজাতীয় সম্প্রদায়ের। আমরা গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও গারো ছাত্র সংগঠনসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতাদের খবর দিয়েছি। কিন্তু কেউ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি জানান, পরিচয় পাওয়া গেলে খুনের কারণ জানা যেতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।
গুলশান বিভাগের এডিসি আবদুল আহাদ জানান, তরুণীর ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা রাখা হবে বলেও জানান তিনি। ১২ নম্বর সড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তরুণীকে কারা ওই রাস্তায় ফেলে গেছে সেটা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ১১ নম্বর বাড়ির আশপাশে কোনো সিসিটিভি না থাকায় ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ গারো ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অলিক ম্রি জানান, আমরা ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। ফেসবুক ও টুইটারে তার ছবি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এছাড়াও তরুণীটিকে দেখার জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। তারাও নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।
আপনার মন্তব্য