সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ মার্চ, ২০১৬ ২০:২৮

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে লবিস্টদের অপপ্রচারের প্রতিফলন : গণজাগরণ মঞ্চ

যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমকে রক্ষার অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও তার ফাঁসির দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

রোববার (৬ মার্চ) বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

গণঅবস্থান কর্মসূচিতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, "মীর কাসেমের বিচার শুরু হবার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এই যুদ্ধাপরাধীকে রক্ষায় লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে। সে কারণে শুরু থেকেই আমাদের আশংকা ছিল, আর সে আশংকার প্রতিফলন হিসেবে মীর কাসেমের রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। মীর কাসেম আলী যেহেতু জামাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রক, অঢেল সম্পদের মালিক, জনগণের আশংকা ছিল এই সম্পদ বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে ব্যবহৃত হবে।"

তিনি বলেন, "যখন জনগণ ডালিম হোটেলে গণহত্যাকারী মীর কাসেমের বিচার পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে, তখনই বিষাক্ত সাপের মতো ছোবল দেয়া শুরু হয়েছে, একের পর এক ষড়যন্ত্র চলছে।"

তিনি আরো বলেন, "ট্রাইব্যুনালকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ এখন নেই। গত ছয় বছরে ট্রাইব্যুনাল অনেক পরিণত, সমৃদ্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে এই ট্রাইব্যুনাল সারা পৃথিবীর কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ট্রাইব্যুনাল এখন আইনের ছাত্রদের গবেষণার বিষয়।"

মীর কাসেমের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, "২৪ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত,  ১৪ জন সরাসরি মীর কাসেমের  নির্মম অত্যাচারের শিকার। ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিমকোর্টের তিনজন অভিজ্ঞ বিচারপতি এই যুদ্ধাপরাধীর অপরাধ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হওয়ার পর ফাঁসির রায় দিয়েছেন। কাজেই এ পর্যায়ে এসে ট্রাইব্যুনালের দুর্বলতার প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়।"

তিনি বলেন, "২০১০ সাল থেকে ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এটা তারই ধারাবাহিকতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে মীর কাসেমের পরিবার যে অপপ্রচার করছে, তাদের কেনা লবিস্টরা দেশে-বিদেশে যে অপপ্রচার করছে, প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে সে অপপ্রচারেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।"

বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মীর কাসেমের অপরাধ নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। ট্রাইব্যুনালে সন্দেহাতীতভাবে তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আর কালক্ষেপণ না করে আপিল বিভাগে এই রায় বহাল রেখে দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বারবার যুদ্ধাপরাধীরা ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাচ্ছে।"

ইমরান এইচ সরকার বলেন, "আমি বিচারপতিকে বলতে চাই, আপনি ট্রাইব্যুনালের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলছেন, অথচ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রচুর মামলা ঝুলে আছে, সে বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই"।
 
তিনি বলেন, "৮ মার্চ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় নিয়েই আমরা ঘরে ফিরতে চাই। সে লক্ষ্যে আমরা রাজপথে আছি এবং থাকবো। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কোনো আপোষ মেনে নেয়া হবে না"।

গণঅবস্থান এর মধ্যে মীর কাসেমকে রক্ষার অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মঞ্চের মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত