সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪০

সাড়ে ৩ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ঢাকা ঘুরে গেলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টার এক ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ আলীর দেওয়া একটি নৈশভোজে অংশ নিয়ে ফিরে গেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল জুবায়ের।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা নেমে সরাসরি গণভবনে যান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সেরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি নৈশভোজে অংশ নিয়ে রাত সাড়ে ৯টায় ফিরে যান তিনি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার পর সৌদি আরবের কোনো মন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুবায়েরের বৈঠকেও সন্ত্রাস মোকাবেলার বিষয়টি আসে, শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তাকে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবনে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন,“সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সহায়তা করবে।”

ইহসানুল করিম আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমিক অভিবাসন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বকে খুবই মূল্য দিয়ে থাকে। ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ হিসেবে দু’দেশে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ব্যবসা-বাণিজ্য অনুসন্ধানে এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাচ্ছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়মিতকরণের জন্য সে দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগ কামনা করেন।

কিছু লোক ধর্মের নামে ইসলামের প্রকৃত চেতনাকে কলঙ্কিত করছে বলে শেখ হাসিনা এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, ইসলাম হচ্ছে শান্তি ও সহিষ্ণুতার ধর্ম। তারা বলেন, চরমপন্থাকে দমন করতে হবে। অন্যথায় তা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়বে এবং মুসলিম উম্মাহর ভাবমূর্তি ও স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ভালবাসা, শান্তি ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়। কিন্তু চরমপন্থিরা ইসলামের মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করছে। তারা এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

আদেল আল-জুবেইর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতির প্রশংসা করেন। পারস্পরিক স্বার্থে আগামীতে বিভিন্ন খাতে দু’দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সে দেশের আন্ডার সেক্রেটারি ড. খালিদ আল জানদান, ড. ইউসুফ আল সাদুন, মহাপরিচালক মোহাম্মদ আল কালাবি, পরিচালক ওসামা নাগলি, পরিচালক খালিদ আল কাঙ্গারি সৌদি এবং বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচএম আল মুতাইরি।

বাংলাদেশ পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় ঢাকায় নামলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বিমানবন্দরে জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই তার এই সফর।

“দুই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে পরামর্শ, সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা করতেই আমি এখানে এসেছি। আমি এখানে এসে আনন্দিত। আমাকে এখানে গ্রহণ করায় সম্মানিত বোধ করছি।”

ওআইসি’র বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে জাকার্তায় রোববার জুবায়েরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মাহমুদ আলী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, মাহমুদ আলী ওই বৈঠকের সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত