নিউজ ডেস্ক

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০৬:৫৭

বিশ্ব ব্যাংকের চাপেই ‘পদ্মা দুর্নীতি মামলা’ : বিস্ফোরক দুদক চেয়ারম্যান

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ পাওয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের ‘চাপে’ দালিলিক তথ্য প্রমাণ ছাড়াই মামলা করা হয়েছিল বলে বিদায়ের আগে জানিয়ে গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান।

রোববার দায়িত্বের শেষ দিন কমিশনে এক বিদায় সংবর্ধনায় তিনি বলেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে আমরা যে এজাহারটি করেছিলাম, তাতে মামলা করার মতো কোনো উপাদান ছিল না। এটা ঠিক হয়নি।”

তারপরও মামলা করার কারণ ব্যাখ্যা করে বদিউজ্জামান বলেন, “যদি বাংলাদেশ পদ্মা সেতুতে অর্থ ছাড় পায়…, মূলত দেশের স্বার্থেই মামলা করেছিলাম।

“তবে পরবর্তী তদন্তে আমরাই প্রমাণ করেছি, অভিযোগটি মিথ্যা। মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করলেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত করলে শুরু হয় দীর্ঘ টানাপড়েন।

বিশ্ব ব্যাংকের তাগিদে ‘ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে দুদকের উপ পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানী থানায় এই মামলা দায়ের করেন, যাতে সাতজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সেতু বিভাগের তখনকার সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। তাকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ২০১৩ সালের জুনে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে চাকরিও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দুর্নীতির ওই ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন সেই সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন। অভিযোগ ওঠে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও।

এরই এক পর্যায়ে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংককে ‘না’ বলে দেয়। নকশা অপরিবর্তিত রেখে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দিয়ে দুদকের পক্ষে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণে ‘দুর্নীতি বা ষড়যন্ত্রের’ কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। এর মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর মামলাটির সমাপ্তি ঘটে।

দুদকের চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান তখন বলেছিলেন, মামলার ‘মেরিট’ না থাকায় ও পর্যাপ্ত তথ্য ও সাক্ষী না পাওয়ায় দুদক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত